সর্বশেষ

সিলেটে দশ দিনে পাঁচ ধর্ষণ, বাড়ছে আতঙ্ক

সিলেটে গত দশ দিনে পাঁচটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে আইন শৃংখলার অবনতি সহ সামাজিক অবক্ষয়কে দায়ী করছেন সচেতন মহল। তারা মনে করছেন আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এ থেকে মুক্তি পেতে পারে।

জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। পরবর্তীতে ওই ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩ জন মামলাটি দায়ের করেন। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ জনসহ সন্দেহভাজন ২জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের ৫দিনের রিমান্ডে নিলে সব আসামী স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে জালালাবাদ থানা এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে (১২) বেঁধে রেখে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনকে গত বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ।

তারা হলেন- ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে পাভেল আহমদ (২৫), হবিগঞ্জের বাহুবল থানার ওয়ারিতা গ্রামের মুশাহিদ মিয়ার ছেলে আব্দুল মোতালিব (২২) ও একই থানার দৌলতপুর গ্রামের আছদ্দর মিয়ার ছেলে রাজন মিয়া (২৪)।

এছাড়া, জহিরুল (২০) নামে অপর এক আসামি পলাতক রয়েছেন। তিনি বাদামবাগিচা এলাকার বাসিন্দা।

ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকালে আসামিরা বাদামবাগিচা এলাকায় ওই মেয়ের কাছে খাওয়ার পানি চায়। মেয়েটি বাসার ভেতরে গিয়ে পানি নিয়ে আসলে পাভেল আহমদসহ অন্য অপরাধীরা তাকে বসত ঘরের পেছনে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পাভেলসহ তিনজনকে ধরে পুলিশে সোর্পদ করে।

এদিকে সিলেটের বিশ্বনাথে মাওলানা রুহুল আমিন শাহার (৩৫) নামে এক ইমামের বিরুদ্ধে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী (১৬) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এ ঘটনায় ৭ জনকে এজাহারভুক্ত ও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন ওই কিশোরীর বড় বোন (মামলা নং-১)।

মামলার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মসজিদের মুয়াজ্জিন মাহফুজ বিন আরিফ (১৯) ও গ্রামের মাতব্বর মখদ্দছ আলীকে (৬৩) গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। আর ঘটনার পর থেকে ইমাম রুহুল আমীন শাহার পলাতক রয়েছেন।

গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বিশ্বনাথের খাজাঞ্চী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে ধর্ষণের এ ঘটনাটি ঘটে। গ্রেফতার হওয়া মোয়াজ্জিন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মাওলানা আরিফ উদ্দিনের ছেলে আর মাতব্বর মখদ্দুছ আলী ইসলামপুরের মৃত আছদ্দর আলীর ছেলে। অন্যদিকে গত শুক্রবার নগরীতে আবারও এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরের দাঁড়িয়াপাড়া এলাকায় রাকিব হোসেন নিজু (২০) নামের এক তরুণ ১৩ বছর বয়সি এ কিশোরীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেছেন ভিকটিমের মা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম মিঞা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত নিজু সিলেটের মদন মোহন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

ওই কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, গত বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মেয়েটিকে ধর্ষণ করে ওই তরুণ।

ওসি মো. সেলিম মিঞা জানান, এ ঘটনায় মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করেছেন কিশোরীর মা। আর কিশোরীকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।

গত রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরীর শামীমাবাদ এলাকার ৪ নং রোডে ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক ২ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, ধর্ষণের খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানার এসআই কামাল দুই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছেন। তারা হলেন, দিলোয়ার (৪০) ও হারুন মিয়া ওরফে চাক্কু হারুন (৩৫)।

তিনি জানান, শামীমাবাদ এলাকার ওই বাসায় স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন ওই নারী। রোববার সন্ধ্যায় বাসার দ্বিতীয় তলার ভাড়াটে দিলওয়ার তার দুই সহযোগিকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার পর ওই নারীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়।

ধর্ষণের শিকার নারী বাদি হয়ে আজ সোমবার সকালে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দাখিল করলে পুলিশ তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। মামলা নাম্বার ৮/৪১১। মামলার ৩ জনের নামোলে­খ করে ও ২ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়।

এদিকে, সাম্প্রতিক সিলেটে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর পর থেকে ভাবিয়ে তুলছে সচেতনমহলসহ সিলেটবাসীকে ।

এব্যাপারে কথা হলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এমসি কলেজের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে এই ধরেণর ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে । যার কারণ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলার যারা এসব দুষ্কৃতকারীর গডফাদার, তাদেরও চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন আইনশৃঙখলা বাহিনীর গাফিলতির কারণে আজ এই ধরণের ন্যাকারজনক ঘটনা-বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ ব্যাপারে এসএমপির মিডিয়ার দায়িত্বে এডিসি জ্যোতির্ময় সরকারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও