‘ভুল’ চিকিৎসার অভিযোগে চিকিৎসককে পেটালেন রোগীর স্বজনরা

পানিতে ডুবে যাওয়া পর এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করায় ‘ভুল’ চিকিৎসার অভিযোগ এনে চিকিৎসককে মারধর করেছে শিশুটির স্বজনরা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর ) দুপুরে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

পরে চিকিৎসকের হামলার ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মারধরের শিকার চিকিৎসক জিয়া উদ্দিন মুহাম্মদ সাকিব। তিনি পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে
দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জানা যায়, সকালে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয় এক শিশুর। তাকে চিকিৎসার জন্য আনা হয় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসিজি করার পর স্বজনদের জানান শিশুটি মৃত। পরে পরিবার শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে গেলে শিশুটির মাংসপেশি নড়ে ওঠে। যা দেখে স্বজনরা শিশুটিকে আবারও হাসপাতলে নিয়ে আসে এবং জীবিত বলে দাবি করে। এসময় চিকিৎসকরা বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলে ‘ভুল’ চিকিৎসার অভিযোগ এনে দায়িত্বরত চিকিৎসককে বেধড়ক মারধর করে।

এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সৌমেন বড়ুয়া বলেন, মৃত্যু পরবর্তী এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যা মেডিক্যালের ভাষায় Rigor Mortis হিসাবে স্বীকৃত। এটি মূলত মৃত্যু পরবর্তী জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক উপজাত মাত্র। বিষয়টি কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বোঝানোর পরও রোগীর স্বজনরা পরিকল্পিত ভাবে চিকিৎসকের ওপর হামলা করে। চিকিৎসককে দায়ী করে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা প্রদানকে ব্যাহত করে উল্লেখ করে তিনি হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

 

আরও