ধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল দেশ, প্রতিকার কোথায়

দেশে করোনার মহামারিকে চাপিয়ে ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনের মহামারি বিস্তার লাভ করেছে। ধর্ষকদের বিচারের দাবীতে উত্তাল দেশ। অব্যাহত রয়েছে মিছিল মিটিং, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ।
সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের রেশ কাটতে না কাটেতে নোয়াখালিতে ঘটলো গৃহবধুকে উলঙ্গ করে নির্মম নির্যাতন।
সরকারও বিষয়টি খুবই গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন। ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ড করার সক্রিয় চিন্তাভাবনা চলছে। এই আইন করে কি প্রতিকার পাওয়া যাবে? এ নিয়ে রয়েছে নানা মত।
কেউ কেউ বলছেন, সারা দেশে ধর্ষণের যে ভয়াবহতা বিরাজ করছে এর পিছনে অন্যতম কারণ ‘বেহায়াপনা, মাদক এবং পর্ণগ্রাফির সহজ লভ্যতা। ছেলে-মেয়ে কার সাথে যাচ্ছে কী করছে এগুলো মা বাবাকে তদারকী করতে হবে।
আগুনের কাছে মোম রেখে যদি মোমকে বলেন না গলতে, মোম কি গলবে না ? আমরা সকল সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে ধর্ষণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবো আর সরকারের বিরুদ্ধে অশ্লীলভাষায় কথা বলবো তাতো হয় না। সরকার আইনগত ব্যবস্থা নেবে। সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে সরকারের পাশাপাশি আমাদেরকেই ভূমিকা রাখতে হবে।
পেশাজীবী ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারী নিপীড়নের ঘটনা রোধে ‘মূল্যবোধের অবক্ষয়’ রোধ এবং ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
ধর্ষণের শাস্তি যদি মৃত্যুদন্ড করা হলেও এই আইনের অপপ্রয়োগ হবার সম্ভাবনা দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, মিথ্যে অভিযোগ দায়েরকারীর বিরুদ্ধেও কঠোর আইন করতে হবে।
ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়েও রয়েছে বিভান্তি। কোনটি ধর্ষণ আর কোনটি প্রতারণা তা আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকালীবাহিনীর অনেকে জানেন না। প্রতিদিন সংবাদপত্রে খবর আসে ‘বিয়ের প্রলোভন যুবতিকে ধর্ষণ’ এই জাতীয় শিরোনামে। এখন প্রশ্ন হলো বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ হয় কীভাবে? বিয়ের প্রলোভনে যে শারিরীক সর্ম্পক হয়েছে তা উভয়ের সম্মতিতে হয়েছে।
ব্রেক আপটা ছেলের তরফে হলেই, মেয়েটি ধর্ষণের অভিযোগ আনে। ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করে। আর পুলিশও এই অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এটা কীভাবে ধর্ষণ মামলা হয়? এটি বড় জোর প্রতারণা মামলা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ছেলেরা বড় অসহায়। মেয়ের তরফে যদি ব্রেক আপ হয় তখন ছেলেটিতো আর মেয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করতে পারে না। সুতরাং প্রতিকার পেতে এইসব আইন নিয়ে আরো চিন্তাভাবনা করা দরকার।

আরও