রায়হানের বাসভবনে মেয়র আরিফ: ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

সিলেট নগরীর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিনের (৩৫) মৃত্যুর ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে মেয়র বলেন, সিলেট মহানগর পুলিশ আশ্বস্ত করেছে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আমরা চাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেবে পুলিশ। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর না হয় সে জন্য তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে নগরের আখালিয়ার নেহারীপাড়ায় নিহত রায়হান উদ্দিনের বাসায় গিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এসব কথা বলেন।

মেয়রকে দেখে রায়হানের মা সালমা বেগম ও স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তারা ‘হত্যাকারীদের’ ফাঁসি চান। এ সময় আরিফুল হক চৌধুরী তাদের সান্ত্বনা দেন এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতের ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরে রায়হানের আড়াই মাস বয়সী কন্যা সন্তান আলফা বেগমকে কোলে নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় নিজের চোখ থেকে জল মুছতে দেখা যায় এ নগর পিতাকে।

এ সময় মেয়রের সঙ্গে স্থানীয় সিটি কাউন্সিলর মো. মখলিছুর রহমান কামরান, বিএনপি নেতা মিফতাহ সিদ্দিকীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে রায়হান উদ্দিন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপতালে মারা যান। তিনি সিলেট নগরের আখালিয়া নেহারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। এ ঘটনায় রোববার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

তবে ঘটনার প্রথম দিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিনতাইকালে নগরের কাস্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন। বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হানকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগে রোববার বিকেলে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের আখালিয়া এলাকায় স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে ঘটনাটি তদন্তের আশ্বাস দেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

এরপর মহানগর পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ এনে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে। অপর তিনজন হচ্ছেন- কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাস। আর প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে তিন পুলিশ সদস্যকে। এরা হচ্ছেন- এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেন।

রায়হানের স্ত্রীর করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কে বা কারা রায়হানকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে হত্যা করেছে। এজাহারে রায়হান বন্দরবাজার ফাঁড়ি থেকে যে মুঠোফোন নম্বর দিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন সেই নম্বরটিও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ফোনটি ফাঁড়ির পুলিশ কনস্টেবল তৌহিদ মিয়ার ছিল বলে জানা গেছে।

 

আরও