বিকেএসপির নিবিড় অনুশীলনে কিভাবে তৈরি হয়েছেন নিষেধাজ্ঞায় থাকা সাকিব

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে যাওয়ার আগে বিকেএসপিতে এক মাস কঠোর অনুশীলন করেছেন সাকিব আল হাসান। ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি বক্সিং, সুইমিং আর রানিংয়ে জোর দিয়েছেন তিনি। এমনটাই জানিয়েছেন সাকিবের তত্ত্বাবধানে থাকা কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। অন্য পাঁচ বা দশজন ক্রিকেটারের চেয়ে একেবারে আলাদা সাকিব। মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রত্যাবর্তন হবে দুর্দান্ত। এমনটাই বিশ্বাস সালাউদ্দিনের। এদিকে, সতীর্থ ইমরুল কায়েসের মতে, নিজের খেলা সম্পর্কে দেশসেরা অলরাউন্ডার খুব ভালোভাবে বোঝেন।

সাকিবের মাঝে অগাধ বিশ্বাস কোচ সালাউদ্দিনের। বিপদে এই ক্রিকেটারের আশ্রয়ও গুরুর কাছে। বিশ্বকাপের আগে হায়দ্রাবাদের অনুশীলন কিংবা নিষেধাজ্ঞার সময় বিকেএসপিতে নিভৃতে কাটানো সময়েও সাকিব আল হাসানের মেন্টরের ভূমিকায় কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ছাত্রের সম্পর্কে তিনিই তো জানেন সবচেয়ে ভালোভাবে।

মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, সাকিব অন্য ৫-১০টা ক্রিকেটারের চেয়ে আলাদা। সে ভালো খেললেও যেমন থাকে, খারাপ খেললেও তেমনই। মানসিকভাবে খুব বেশি হেরফের হয়না। আমি সবসময়ই দেখি, সে খেলার বাইরে থাকলে, খুব ভালোভাবে ফিরে আসে।

বিকেএসপির নিবিড় অনুশীলনে কিভাবে তৈরি হয়েছেন নিষেধাজ্ঞায় থাকা সাকিব- ভক্ত কিংবা গণমাধ্যম সবাই জানতে চায় এটা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছবি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অনুষ্ঠানে পাতলা গড়নের ক্রিকেটারকে দেখে অনুমান করা যায়- একেবারে বসে থাকেননি, ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন ভালোই। কেমন ছিলো সে কাজগুলো, ধারণা পাওয়া যায় কোচের বর্ণনাতে।

কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, আমি, ফাহিম স্যার আর সাকিব মিলেই প্রোগ্র্যামটা করি। যেহেতু শ্রীলঙ্কা সফরে টেস্ট খেলা ছিলো, সেভাবেই পরিকল্পনা করছিলাম। স্কিলে কোনো সমস্যা মনে হয়নি। ফিটনেসের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করেছি। বক্সিং, সুইমিং করানো হয়েছে। রিচার্ডের সময় এইচপিতে যে কঠিন ট্রেইনিং করা হতো, চেষ্টা করেছি তেমন কিছু করার। চার সেশনে ট্রেইনিং হয়েছে। সকালে হয়তো ফিটনেস, এরপর ব্যাটিং অথবা বক্সিং বা সুইমিং করেছি। প্রথম ২-৩ সপ্তাহ কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে, ধীরে ধীরে মানিয়ে নিয়েছে। ব্যাটিংয়ে আরও ভালো করার সুযোগ আছে। বোলিংটা সাকিবের গড গিফ্টেড। এটা নিয়ে খুব একটা কাজের প্রয়োজন নেই।

সতীর্থদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ইমরুল কায়েসের কণ্ঠেও দৃঢ়চেতা সাকিবের বন্দনা।

ইমরুল কায়েস বলেন, সাকিব যখন দেশে আসে, আমরা তখন ২ দিনের প্র্যাক্টিস ম্যাচ খেলছিলাম। বায়ো-বাবলের মধ্যে থাকায় দেখা হয়নি। ফোনে কথা হয়েছে। বিকেএসপিতে যারা ওর সঙ্গে ট্রেইনিং করেছে, তারা বলেছে সাকিব ভাই অনেক কষ্ট করছে। আমার মনে হয়, ও খুব ভালোভাবে বোঝে ওর কি করা উচিত।

শুভানুধ্যায়ীদের দৃঢ় বিশ্বাস, কর্পোরেট টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টেই আরও ক্ষুরধার হয়ে ফিরবেন মিস্টার সেভেন্টি ফাইভ।

 

আরও