টানা চার ম্যাচ জয়বঞ্চিত বার্সেলোনা

মর্যাদার এল ক্ল্যাসিকো ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ১-৩ গোলে হেরে গেলেও, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছিল স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা। মাঠের খেলাও ছিল দুর্দান্ত।

ধারণা করা হচ্ছিল, হয়তো জুভের বিপক্ষে এ জয়ের সুবাদে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করবে কাতালান ক্লাবটি। কিন্তু কিসের কী! ঠিক পরের ম্যাচেই আবারও ব্যর্থতার ঘেরাটোপে আটকা লিওনেল মেসি, আনসু ফাতিরা। আরও একটি ম্যাচ তারা শেষ করল জয়ের মুখ না দেখেই।

শনিবার রাতে তুলনামূলক দুর্বল আলাভেসের মাঠে খেলতে নেমেছিল বার্সেলোনা। এই দলটির মাঠে আগের ছয় ম্যাচে একটি গোলও হজম করেনি বার্সা। ফলে এবারের মুখোমুখি লড়াইয়েও পরিষ্কার ফেভারিট ছিল তারাই। কিন্তু মাঠে নামতেই বদলে যায় সব।

ম্যাচের ৩১ মিনিটে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে বার্সার জালে বল প্রবেশ করায় আলাভেস। এই গোলের সুবাদে বার্সেলোনাকে রুখে দিয়েছে স্বাগতিক ক্লাবটি। পরে এই গোল শোধ করলেও জয়সূচক গোল পাওয়া হয়নি বার্সার, মাঠ ছাড়তে হয়েছে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই।

এ নিয়ে টানা চার ম্যাচ ধরে জয়ের দেখা পাচ্ছে না রোনাল্ড কোম্যানের শিষ্যরা। গত ৫ অক্টোবর সেভিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল তারা। এরপর গেটাফের কাছে ০-১ ও রিয়ালের কাছে হারে ১-৩ গোলে। এবার আলাভেসের সঙ্গে ড্র করে পয়েন্ট টেবিলের ১২ নম্বরে নেমে গেছে কাতালান জায়ান্টরা।

অবশ্য ম্যাচটিতে দুর্ভাগাই বলতে হবে বার্সেলোনাকে। প্রতিপক্ষের মাঠ হলেও আধিপত্য দেখিয়ে খেলেছে তারাই। পুরো ম্যাচের ৮০ শতাংশ সময় বলের দখল নিজের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছিল বার্সা, আক্রমণে উঠেছে অন্তত ২৫ বার। কিন্তু গোল হয়েছে মাত্র ১টি।

কখনও আলাভেসের জমাট রক্ষণ, আবার কখনও গোলরক্ষক ফার্নান্দো ফ্লোরেসের অবিশ্বাস্য সব সেভে বারবার হতাশ হতে হয়েছে মেসি, গ্রিজম্যান ফাতিদের। দুর্দান্ত খেললেও গোলের অভাবেই ম্যাচটি জিততে পারেনি বার্সেলোনা। নিজেদের রক্ষণ শক্ত রেখে এক্ষেত্রে পুরোপুরি সফল আলাভেস।

অন্যদিকে বার্সেলোনা মূল্যবান দুই পয়েন্ট হারিয়েছে নিজেদের রক্ষণের ভুলেই। ৩১ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে অযথাই গোলরক্ষককে ব্যাকপাস দেন বার্সার হয়ে ৫৫০তম ম্যাচ খেলতে নামা অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে। পাসটি ছিল খুবই দুর্বল। মাঝ থেকে বল দখলে নিয়ে গোলরক্ষক ভ্যাবাচ্যাকা খাইয়ে দলকে এগিয়ে দেন আলাভেস ফরোয়ার্ড লুইস রিয়োহা।

এই গোলের আগে-পরে অনেক চেষ্টা করেছে বার্সেলোনা। কিন্তু আলাভেসের গোলের তালা ভাঙতে সক্ষম হয়নি তারা। গোলরক্ষককে একা পেয়েও বাইরে মারেন ১৮তম জন্মদিনে খেলতে নামা ফাতি। ঠিক গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয় মেসির অসাধারণ এক ফ্রি-কিক। সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন ফ্রেংকি ডি ইয়ং, মেসির আরও একটি শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান ফ্লোরেস।

যার ফলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধের ৬২ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আলাভেসের হোতা। ফলে দশজনের দলের বিপক্ষে ভালো সুযোগ আসে বার্সেলোনার সামনে। সেটি কাজে লাগিয়ে ৬৩ মিনিটেই ম্যাচে সমতা ফেরান ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার অ্যান্তনিও গ্রিজম্যান।

এরপর আরও দুইবার বল জালে জড়িয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু প্রথমবার গ্রিজম্যানকে বল দেয়া ত্রিনকাও এবং পরেরবার অধিনায়ক মেসি নিজেই ছিলেন অফসাইডে। ফলে বাতিল করা হয় এ দুই গোল। ম্যাচে আর লিড নেয়া হয়নি তাদের, মাঠ ছাড়তে হয়েছে টানা চার ম্যাচ জিততে না পারার হতাশা নিয়েই।

এই ড্রয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের ১২ নম্বরে নেমে গেছে বার্সেলোনা। এখনও পর্যন্ত ৬ ম্যাচে দুই জয় ও দুই ড্র’তে তাদের সংগ্রহ মাত্র ৮ পয়েন্ট। অন্যদিকে ৭ ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্র’তে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে বার্সার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ।

 

আরও