ফুলবাড়ীতে ঝড়ো হাওয়ায় উড়ল প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়ে আনন্দের সীমা ছিল না দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বিউটি বেগমের (৪৫)। কিন্তু তার সেই আনন্দ ফিকে হয়ে যেতে বেশি সময় লাগেনি। নির্মাণের পরপরই তিনি বুঝতে পারছিলেন- এই কাজে বেশ নয়ছয় হয়েছে। তার সেই ঘর ল-ভ- হয়ে গেছে ঝড়ে। ভাগ্যের জোরে প্রাণে বেঁচে গেছেন এ যাত্রায়। তাই রাজ্যের আক্ষেপ আর হতাশা তার কণ্ঠে- ‘মোক সরকার ঘর দিলো, কিন্তু এটা কেংকা ঘর? এনা বাতাসোত মোর ঘরের চালা উঁড়ি গিয়া পুখুরোত পড়ল।’ গত সোমবার মধ্যরাতে ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের

বাসুদেবপুর গ্রামে ঝড়বাতাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর নবনির্মিত পাঁচটি ঘর। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পায় ওইসব ঘরে থাকা পাঁচটি পরিবার।

সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায়, সোমবার মধ্যরাতে সামান্য ঝড়বাতাসে ঘরের বারান্দার পিলার ভেঙে টুকরো টুকরো হয়েছে। উড়ে গেছে পাঁচটি ঘরের বারান্দাসহ ঘরের ছাউনির টিন ও বর্গা। বসবাসের শুরুতেই ঘর ভেঙে পড়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে ওই পাঁচটি পরিবারসহ সেখানে বসবাসকারী সকলের মাঝে। শুধু ঝড়ে ভেঙে পড়াই নয়, ক্ষেতের মাঝখানে এসব বাড়ি নির্মাণ করা হলেও সেখানে যারা বাস করবেন তাদের চলাচলের জন্য কোনো রাস্তাও নির্মাণ করা হয়নি। নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে নির্মাণ শেষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন ঘর পাওয়া ১০০টি পরিবার।

এই বাড়িগুলো নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথমে খাস জমি শনাক্ত করে ভূমি অফিস। পরে ওই খাস জমিতে আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন। উপজেলায় মোট ৭৬৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য ৭৬৯টি আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়।

ঝড়ে ভেঙে যাওয়া ঘরের মালিক বিউটি বেগম বলেন, ‘মোক সরকার ঘর দিলো কিন্তু এটা কেংকা ঘর? এনা বাতাসোত মোর ঘরের চালা উঁড়ি গিয়া পুখুরোত পড়ল। ছোলপোল নিয়া আল্লাহকে ডাকিছুনু। আল্লাহ রহম কর, প্রাণে বাঁচি গেলে মুই আর ওই ঘরোত থাকিম না। মোর ছোলপোলকে রক্ষা কর। মুই মনোত নিসো, মাঠোতে থাকিম তাও এঙ্কা ঘরোত যাম না আর। মুই মোর ছোলপোলকে হারাতে চাও না। এগলা মানসোক মারার জন্য করসে।’

সুফলভোগী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ‘নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হচ্ছে। পিলারে কোন রড না থাকায় একটু বাতাসেই দুলছে ঘরগুলো। ঘরগুলোতে এখনি ফাটল ধরছে। এছাড়াও নেই পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। রাস্তা থেকে বহুদূর জমির মাঝখানে এসব ঘর নির্মাণ করা হলেও চলাচলের ব্যবস্থা নেই। শুরু থেকেই ভালো মানের কাজের দাবি করে এলেও সুফলভোগীদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘ঘর ভেঙে পড়েছে? কই আমাকে তো কেউ জানায়নি। আমি এখনি খোঁজ নিচ্ছি।’

আরও