সবটাই বাবুলের ‘অভিনয়’ ছিল

 স্ত্রীকে খুনের খবর পেয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরে অঝোরে কেঁদেছিলেন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। এমনকি কান্নায় ভেঙে পড়া বাবুল জানাজায় দাঁড়াতেও পারছিলেন না! তার চোখের জল আবেগাক্রান্ত করেছিল সহকর্মীদের, দেশের আপামর মানুষকেও। জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানে আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন বাবুল আক্তার। জঙ্গিদের টার্গেট হয়েছিলেন তিনি ও তার পরিবার— এমন আলোচনাও ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। বেশ কয়েকবার ফেসবুকে স্ত্রী হারানোর বিয়োগব্যাথা নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাসও দিয়েছিলেন।

কিন্তু ঘটনার পাঁচ বছরের মাথায় এসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে উঠে এসেছে— সবটাই ছিল বাবুল আক্তারের অভিনয়! হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাবুল নিজেই। তার শ্বশুর থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেছেন, জনৈক এনজিও কর্মকর্তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে দাম্পত্য কলহ থেকে বাবুল নিজেই তার স্ত্রীকে খুনের পরিকল্পনা করেন ও নির্দেশ দেন। আর পিবিআই বলছে, তিন লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করে বাবুল আক্তার এই হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদসহ নানা নাটকীয়তার পর ওই বছরের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আরও