হাজীগঞ্জে শিশুসহ ৩ নারীকে ধর্ষণের তথ্য ‘গুজব’

সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকালে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বী একই পরিবারের তিন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ গুজব বলে দাবি করেছেন প্রশাসন, পুলিশ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

সনাতন ধর্মের নেতারা বলছেন, একটি মহল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ফেসবুকে এমন গুজব ছড়াচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার রাতে ফেসবুকে বিভিন্ন আইডি থেকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ওই অভিযোগটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে দাবি করা হয়, ১০ বছরের এক শিশু, তার বোন ও মাসি ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

শনিবার কয়েকটি পোস্টে বলা হয়, ‘ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের শিশুটি মারা গেছে। মৃত্যুর মুখে রয়েছে তার মাসি (খালা) ও বোন।’

তবে কোনো পোস্টেই ঘটনার জায়গা বা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র উদ্ধৃত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বরং সবাই দাবি করছেন, উপজেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও তিন জনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ধর্ষণের তথ্য সম্পূর্ণ গুজব বলে দাবি করেছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিঠুন ভদ্র।

তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। তার আগে ৯ বছর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। আগে থেকেই আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজনের ভালোমন্দ দেখছি। যার কারণে যেকোনো বিষয়ে মানুষ আমাকে জানায়। তবে মন্দিরে হামলা ছাড়া এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর আমার কাছে নেই। কোনো মানুষ এমন কোনো খবর আমাদের জানায়নি। এগুলো সম্পূর্ণ গুজব।’

হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রুহিদাস বণিক বলেন, ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের খবরটি ভুয়া। এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের পূজা উদযাপন পরিষদ, জাতীয় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বা বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কোনো নেতার কাছে নেই। কেউ যদি এমন কোনো খবর ফেসবুকে পোস্ট দেয়, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। যারা এই ধরনের গুজব ছড়ায় তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। সবাইকে এ ধরনের গুজব এড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।’

হাজীগঞ্জ রামকৃষ্ণ সভা আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক নিহা রঞ্জন হালদার মিলন বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ গুজব। যারা এ ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।’

‘আমাদের এলাকায় এই ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাইনি। এগুলো গুজব রটানো হচ্ছে’, বলেন হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ত্রিনয়নী সংঘ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক গোপাল সাহা।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, ‘এ ধরনের কোনো খবর আমরা পাইনি। আমাদের কাছে কেউ অভিযোগও করেনি। এটা সম্পূর্ণ গুজব। এভাবে একজন মানুষ মারা যাবে আর পুলিশ বসে থাকবে, তা কখনও হয়? যারা এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বলেন, ‘সারা হাজীগঞ্জ খুঁজেও আমরা এ ধরনের কোনো সংবাদ পাইনি। এগুলো সম্পূর্ণ গুজব। এসব গুজব যারা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, ‘ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং নেতারা নিশ্চিত করেছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব।

গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো কিছু শুনলেই বিশ্বাস না করে আগে তার সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করুন।’

 

আরও