সর্বশেষ

সিলেটে বিদ্রোহীতে টালমাটাল আ.লীগ

তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণের দিন নিকটবর্তী। কিন্তু বিদ্রোহ ঠেকাতে পারছে না আওয়ামী লীগ। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে মোট ১৩ টি ইউনিয়নের মধ্যে বিদ্রোহীদের কারণে অধিকাংশ জায়গাতেই নৌকার ভরাডুবি হয়েছিলো। এবার তৃতীয় ধাপের নির্বাচনেও বিদ্রোহীতে ভরা ডুবির শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিলেট ৩ উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নের মাঝে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন
১৩ জন। আর সাথে ‘স্বতন্ত্রের’ মোড়কে বিএনপি জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা আছেন ফুরফুরে মেজাজে। এমন অবস্থায় দলীয় প্রার্থীর বিজয়ের লক্ষ্যে বহিষ্কার করেও বিদ্রোহ ঠেকাতে পারছে না আওয়ামী লীগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, দক্ষিণ সুরমা ও জৈন্তাপুর উপজেলা মিলে মোট ১৬ টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ হবে। এ লক্ষ্যে প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রচার প্রচারণায়। আর শেষ মুহূর্তের হিসেবনিকেশ শুরু করেছেন ভোটাররাও। তাই সময় যতই ঘনিয়ে আসছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের কারণে ফের ভরাডুবির শঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে।
জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৬ জন, জৈন্তাপুরে ২ জন, দক্ষিণ সুরমায় ৫ জন মিলে নৌকার বিদ্রোহী ১৩ জন। এর মাঝে গোয়াইনঘাটের রুস্তুমপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাসুক আহমদ। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আব্দুল মতিন। ফতেহপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন বিদ্রোহী আমিনুর রহমান চৌধুরী। লেঙ্গুরা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মুজিবুর রহমান। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া রাসেল। নন্দিরগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামরুল হাসান আমিরুল। তার সঙ্গে বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সিরাজুল ইসলাম। ডৌবাড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুভাস দাশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেুা এম নিজাম উদ্দিন। তোয়াকুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী লোকমান আহমদের বিদ্রোহী হয়েছেন শামসুদ্দিন আহমদ।

সীমান্তর্বুী জৈন্তাপুর উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক রাজা। তার সঙ্গে বিদ্রোহী হয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম। চিকনাগুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামরুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেুা আমিনুর রশিদ বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

এমন অবস্থায় সিরিজ বহিষ্কার করেও বিদ্রোহ ঠেকাতে পারছে না আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে দুই ধাপে মোট ১৬ জনকে বহিষ্কার করেছে আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ গণ বুধবার বিদ্রোহী হবার অপরাধে ১০ জনকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন- দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ নেছারুল হক বুস্তান, মোগলাবাজার ইউনিয়নে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল ইসলাম সাইস্তা, একই ইউনিয়নে আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেুা শামিনুল হক শেবুল, সিলাম ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান, দাউদপুর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম আলম।

গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, ফতেহপুর ইউনিয়নের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিনুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক, ডৌবাড়ি ইউনিয়নে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী এম নিজাম উদ্দিন, নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম এবং উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও লেঙ্গুরা ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া রাসেল।

এছাড়া জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমিনুর রশিদকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে তৃণমূলের একাধিক নেুার দাবি, ক্ষোভ আর অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণেই বিদ্রোহ বেড়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতাকর্মী জানান, নৌকার বিদ্রোহী বেশি থাকায় স্বতন্ত্রের মোড়কে বিএনপির-জামায়াতের প্রার্থীরা সুযোগ নিচ্ছে।

অপরদিকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির খানের মতে দলের প্রতি কারো মায়া থাকলে বিদ্রোহী হবার কথা নয়। তিনি বলেন, তাই যারাই দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাচ্ছেন আমরা তাদের পদসহ বহিষ্কার করছি। আমরা আমাদের জায়গা থেকে আমাদের করনিয় করছি। তার পরও কেউ বিদ্রোহী হলে সেটা তার ব্যাপার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও