দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামের কথা

বর্তমানে ঢাকায় এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন মিশনে ৯ জন নারী কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত ও সচিব (পূর্ব)–এর দায়িত্ব পালন করছেন। ১৩ জুলাই এই ৯ জন কূটনীতিককে নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে প্র নারীমঞ্চে। এখানে পড়ুন দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামেরকথা।

সরকারি চাকরি করার কোনো পরিকল্পনা আবিদা ইসলামের ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর সহপাঠীদের দেখাদেখি বাসায় কাউকে না জানিয়ে বিসিএস পরীক্ষার জন্য আবেদন করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বাবা মো. নজরুল ইসলাম (পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের ১৯৬৫ ব্যাচের কর্মকর্তা, এখন প্রয়াত) উৎসাহ দেন। বিসিএসের বৈতরণি পেরিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার সময় আবিদা ইসলামের অভিজ্ঞতাটা ছিল মজার। বাবা নজরুল ইসলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত তাঁর ব্যাচমেটদের নিজের মেয়ের সেখানে যোগ দেওয়ার খবরটি জানাতে গিয়ে অবাক হন। কারণ, তাঁদের প্রায় সবাই তাঁকে পরামর্শ দেন, মেয়ে যেন স্কুল অথবা কলেজের শিক্ষকতা কিংবা সরকারের অন্য কোনো ক্যাডারে যোগ দেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, পরিবার সামলে এই চাকরি করা আবিদা ইসলামের জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে পড়বে। বাবার পাশাপাশি মা সেলিনা ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত মুক্ত মনের মানুষ। পরিবারের কাছ থেকে সমর্থন না পেলে জীবনের গতিপথটাই হয়তো বদলে যেত!

২০১৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে কূটনৈতিক আবিদা ইসলামের নতুন অধ্যায়ের শুরু হয়। দেশটিতে জীবিকার তাগিদে ও উন্নত জীবনের আশায় অনেক বাংলাদেশি তরুণ দেশে পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেই দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে বাধ্য হন। যদিও তাঁদের অনেকের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাটা থাকে। বিষয়টি জানতে পেরে আবিদা ইসলাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দূতাবাসের সঙ্গে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে দূরশিক্ষণের মাধ্যমে প্রথমে এইচএসসি এবং পরে বিএ কোর্স চালু করেন। প্রথমবারের মতো সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসের নেওয়া এই উদ্যোগ এখন মডেল হিসেবে অনুসরণ করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে।

আরও