নাসিক নির্বাচন: জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আইভী, আত্মবিশ্বাসী তৈমুর

 আসন্ন ১৬ তারিখের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক গণসংযোগ করছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও বিএনপি থেকে প্রত্যাহারকৃত স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুল আলম খন্দকার। প্রচারণাকালে বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন তারা।

শুক্রবার সকাল ১০টায় ১১ নং ওয়ার্ডের এম সার্কেস রোড থেকে শুরু করে ওয়াটার ওয়ার্কাস রোড (পানির কল), হাজীগঞ্জ, তল্লা, খানপুর এলাকায় গণসংযোগ করেন নৌকার মাঝি আইভী। গণসংযোগে প্রতিটি এলাকায় ফুল দিয়ে আইভীকে বরণ করে নেয় এলাকাবাসী। এ সময় পুরো গণসংযোগ মুখরিত হয় আইভীর পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানে। আইভীকে কাছে পেয়ে সব বয়সের নারীরা আলিঙ্গণ করে।

গণসংযোগের এক পর্যায়ে মাইক ব্যবহার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, আমরা সকালে কোনো মাইক চালাই না। আমাদের মাইক ২টার থেকে বের হয়। আমি ৩টা ওয়ার্ড মিলিয়ে একটা মাইক দিয়েছি। যিনি অভিযোগ করেছেন তার মাইক আমাদের থেকে বেশি চলে। আর এ বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই। নারায়ণগঞ্জের জনতা আমার পাশে। নৌকার বিজয় হবে এজন্য উনি দিশেহারা হয়ে অনেক কিছু বলছেন। সুতরাং তার অভিযোগগুলো সঠিক না।

তিনি বলেন, আমি যেখানেই যাচ্ছি প্রচুর লোকজন আমার পাশে আসছে, বিশেষ করে ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে নারীরা। আর জয়ের বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। আমিই জিতব ইনশাল্লাহ। কারণ মানুষ সারা দিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সমর্থনের বিষয়ে তিনি বলেন, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শতভাগ সমর্থন আমি পাচ্ছি। আপনারা এখানেই খোঁজ করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এখানে আছে কিনা। তারা আমার সাথে সব জায়গায় আছে।

মেয়র প্রার্থী তৈমুরের পোস্টা ছেড়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে আইভী বলেন, ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জে আমার কোনো অবস্থা ছিলো না তখন কিন্তু মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছে। তৈমুর কাকার অভিযোগটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আপনারা শহর ঘুরলে দেখতে পারবেন যে আমার থেকে তার পোস্টার বেশি। আমি এ অপরাজনীতি করি না। আকরাম সাহেব যখন দল করতেন তখন উনি আমার সাথে ছিলেন। উনি আমাদের দল থেকে পদত্যাগ করে অন্য দলে চলে গিয়েছেন। যেহেতু উনি অন্য দলে চলে গিয়েছেন সেখানে উনি আমার সাথে কিভাবে থাকবেন? আমি মনে করি যত রটে তত ঘটে না। নারায়ণগঞ্জের যে সুষ্ঠু রাজনীতির ধারবাহিকতা এখানে অনেক কিছু বলা হয় এবং অনেক প্রপাগান্ডা চালানো হয়। কিন্তু দিনশেষে ভোট সুষ্ঠু হয়। আমি আশা করি এবারও তাই হবে।

এদিকে নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী এড. তৈমূর আলম খন্দকারও চালাচ্ছেন জোরদার প্রচারণা। তার সাথে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ এস এম আকরাম। শুক্রবার সকাল থেকে বন্দরের ২৫ নং ওয়ার্ডের কাজী নজরুল ইসলাম কলেজের সামনে শুরু হওয়া প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি নুর উদ্দিন, সদর থানা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী নাহিসুল ইসলাম সাদ্দামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, আমি একটা বিষয় বিশ্বাস করি, পাথরে লিখ নাম সে নাম মুখে যাবে, হৃদয়ে লিখ নাম সে নাম রয়ে যাবে। মানুষের হৃদয়ে এখন হাতি লেখা হয়ে গেছে। ঢাকা থেকে মেহমান এনে আমাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ালে আর কাজ হবে না। কারণ ২০১৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিনবার বলেছেন তৈমূর আলম খন্দকার জেতার মত প্রার্থী। আল্লাহর রহমতে আমাদের একটা গণভিত্তি আছে, জনগণ আমাদের পাশে আছে।

তিনি আরও বলেন, জনগণ চাচ্ছে বলেই প্রার্থী হয়েছি। জনগণ তাদের মনের মতো প্রার্থী পেয়েছে বলে আজ স্বেচ্ছায় ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ নেমে পড়েছে। আমি যেখানে যাই শুধু আগের দিন জানিয়ে দেই তারাই সবাইকে নিয়ে সমন্বয় করে থাকেন। এখানে আজ আমি গণজোয়ার দেখেছি। এই গণজোয়ার পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

আরও