দুই সন্তানের মা শিমুর ছিল ‘লাভ ম্যারেজ; কেন এই খুন?

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের একদিন পর পুলিশ তার স্বামী ও স্বামীর একজন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, এরইমধ্যে তার স্বামী শাখাওয়াত আলী নোবেল এ হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

অথচ একদিন আগেই এই অভিনেত্রীকে নিখোঁজ উল্লেখ করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন গ্রেপ্তার নোবেল।

পাশাপাশি নিহত শিমুর বোন ফাতিমা নিশা মঙ্গলবার সকালে কেরানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেছেন, কেন কে আমার বোনকে হত্যা করেছে, আমরা এখনও বুঝতেই পারছি না। আমার বোন জামাইয়ের সঙ্গে বোনের তেমন কোনো কলহ ছিল না। তাদের ১৮ বছরের সংসার, তারা লাভ ম্যারেজ করেছিল।

তবে যে-ই এ হত্যা করুক, আমরা চাই, সঠিক বিচার হোক, আমরা মামলা করব, যোগ করেন ফাতিমা নিশা।

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে শিমুর মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর ফাতিমা নিশা সাংবাদিকদের জানান বোনের ফোন বন্ধ পেয়ে এবং তিনি বাসায় না ফেরায় তাদের সন্দেহ হয়।

এরপর তারা হাসপাতাল, থানা ও এফডিসিতে খোঁজ নিতে শুরু করেন। কেরানীগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয়ের নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পেরে তারা মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে এসে বোনের খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান।

এর আগে সোমবার সকালে শিমু নিখোঁজ জানিয়ে কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন তার স্বামী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, রোববার সকালে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান শিমু। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ।

কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সালাম মিয়া বলেন, মরদেহটি টুকরো করে দুইটি বস্তায় ভরে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছিল। তার গলায় একটি দাগও রয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর সোমবার রাতেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তার স্বামী এবং একজন বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করি। এরপর সাক্ষ্যপ্রমাণ ও প্রাথমিকভাবে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, পারিবারিক কিছু ইস্যু ও দাম্পত্য কলহ এই হত্যাকাণ্ডের কারণ হয়ে থাকতে পারে।

হত্যার পর মরদেহটি গুম করার চেষ্টা করা হয়েছে। অভিনেত্রীর স্বামীর বন্ধু মরদেহটি গুম করতে সহায়তা করেছিলেন বলেও আমরা জানতে পেরেছি, সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

তবে কোথায়, কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ।

এই ঘটনায় কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

শিমু দুই সন্তান ও স্বামীর সঙ্গে ঢাকার কলাবাগানের গ্রিন রোডে থাকতেন।

আরও