চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি: পরিবর্তন নাকি হ্যাটট্রিক

 চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন আজ। মিশা-জায়েদ প্যানেল এবার জিতলে টানা তিনবার কমিটির নেতৃত্বে আসবেন তারা। আবার কাঞ্চন-নিপুন প্যানেলকেই কী বেছে নেবেন শিল্পীরা। দুই প্যানেলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার অপেক্ষায় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের আশাবাদ নিয়ে এ আয়োজন…

সব সময় শিল্পীদের সঙ্গে ছিলাম : কাঞ্চন

আমি সব সময় শিল্পীদের সঙ্গে ছিলাম। আগের নির্বাচনে আমাকে নির্বাচন কমিশনার হতে বলা হয়েছিল, আমি ছিলাম। শিল্পী সমিতির উপদেষ্টা কমিটিতে থাকতে বলা হয়েছিল, আমি ছিলাম। শুরুতে নির্বাচন করার কথা ছিল না। নিপুণ, রিয়াজ, ফেরদৌসসহ অন্যরা আমাকে এমনভাবে ধরেছে যে, আমি না করতে পারিনি। তারা ভালো বলেই আমি তাদের সঙ্গে আছি। আমি যেমন মানুষের উপকার করার চেষ্টা করি, নিপুণও সেই কাজ করে। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, সংকটে নীরবেই সে চলচ্চিত্রের শিল্পী-কলাকুশলীদের পাশে থেকেছে, উপকার করেছে। সত্যিকারের নেতা তো এভাবেই কাজ করেন। একটি কথা বলতে চাই সাহায্য দিয়ে শিল্পী বাঁচেন না, ইন্ডাস্ট্রিকেও বাঁচানো যায় না। ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে হলে আমাদের কিছু প্রোগ্রাম, কৌশল ও পরিকল্পনা করতে হবে। সেই পরিকল্পনাগুলো যেভাবে হওয়া উচিত ছিল, সেভাবে এতদিন হয়নি। আমরা সেটা করার চেষ্টা করব।

শিল্পীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কাজ করছি : মিশা

শিল্পীদের অনেক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কাজ করছি। আমরা ১২ লাখ টাকার বেশি ফান্ডে জমা করেছি; যা আগে কেউ করেননি। যেটুকু বুঝতে পেরেছি, অসমাপ্ত অনেক কাজের জন্য সহকর্মীরাই বলেছেন, মিশা ভাই, আপনি আরেকবার থাকেন। আমাদের শিল্পীদের অনিশ্চয়তার কথা ভেবেই নির্বাচন করছি। ১৮৪ জন শিল্পী নানা কারণে বাদ পড়েছেন। তাদের মধ্যে যোগ্যদের সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে কাজ করব। আমরা ভবিষ্যতে আরও বেশি জবাবদিহি বাড়াব। শৃঙ্খলার সঙ্গে আরও বেশি সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করব। এবার শতভাগ সেবা নিশ্চিত করব। শিল্পী সমিতিকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গিয়েছি যে, আমাদের উপদেষ্টাই স্বয়ং নির্বাচন করছেন। ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই আমাদের উপদেষ্টা ছিলেন। একজন একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকও শিল্পী সমিতির সেবা করতে চান। তার মানে আমাদের গত পরিষদ এমন হাইপ তুলেছে, যার কারণে ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই সেবা করার জন্য আসতে চাইছেন।

আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে অভিভাবক দরকার : নিপুণ

আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে একজন অভিভাবক দরকার। শিল্পীদের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্রের মানুষদের মধ্যকার দূরত্ব দূর করতে আমাদের এমন কাউকে দরকার, যিনি দাঁড়িয়ে শক্ত হাতে সব সামাল দেবেন। কাঞ্চন ভাই তেমনই একজন মানুষ। কাঞ্চন ভাইয়ের কথা হলো, যদি আমরা আসি, আপনারা (বর্তমান কমিটি) আমাদের সঙ্গে এসে কাজ করবেন। আর যদি আপনারা আসেন, তা হলে আমরা আপনাদের সঙ্গে বসে একসঙ্গে কাজ করব। সুতরাং যে দলই জিতুক, আমরা একসঙ্গে কাজ করব। এফডিসির সবাই মিলে বছরে যেন ৫০-৬০টা ছবির কাজ করতে পারেন তেমন উদ্যোগ নিতে চাই। যারা ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যে কাজ করেন তাদের জন্য বীমার ব্যবস্থা করতে চাই। ফাইটার এবং ড্যান্সার গ্রুপের সবাইকে আরও প্রশিক্ষিত করে তুলতে দেশের বাইরে থেকে প্রশিক্ষক এনে কর্মশালা আয়োজন করার পরিকল্পনাও আছে। এর বাইরে আরও নানা কাজের কথা আমরা ভাবছি।

ভোট না দিলেও শিল্পীদের জন্য কাজ করব : জায়েদ

শিল্পীরা যদি মনে করেন আমি যোগ্য নই, ভোট না দেন, তবু আমি শিল্পী সমিতির জন্য কাজ করতে আগ্রহী। জায়েদ খান সব সময় শিল্পীদের পাশে আছে। যখন করোনায় অনেকেই আত্মীয়স্বজনকে ছেড়ে পালিয়েছেন, সেই সময় আমরা শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। দাফন করেছি। খাবার পৌঁছে দিতে ছুটেছি। সবার পাশে থেকেছি। সেই সময়ই শত শত শিল্পী আমাকে ফোন দিয়ে পাশে ছিলেন। আগামীতেও থাকবেন বলে আমার বিশ^াস। অনেক শিল্পীর থাকার জায়গা নেই। তাদের জন্য আবাসের ব্যবস্থা করব। যারা কাজ পাচ্ছেন না তাদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করব। কাজে শিল্পীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াব। সদস্য ফরমকে সহজলভ্য করা। বিদেশি শিল্পীদের নিয়ম মেনে কাজ করার দিকে নজর দেব। শিল্পীদের ফান্ড গঠন, কল্যাণ তহবিল, শিল্পীদের সামগ্রিক সুযোগসহ নানা বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করব। শিল্পী সমিতিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাব।

আরও