ইউক্রেনীয় বৃদ্ধকে হত্যা, আদালতে তার স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইলেন রুশ সেনা

 প্রথমবারের মতো ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের কথা স্বীকার করে নিয়েছে এক রুশ সেনা। ৬২ বছরের এক ইউক্রেনীয় বৃদ্ধকে তিনি নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন। কিন্তু এ জন্য তিনি অনুতপ্ত। আদালতে তিনি ওই বৃদ্ধের স্ত্রী ক্যাটেরিনা শালিপোভার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বৃহস্পতিবার কিয়েভের একটি আদালতে দ্বিতীয় দিনের মতো এই মামলার শুনানি হয়। অভিযুক্ত ওই রুশ সেনার নাম ভাদিম শিশিম্যারিন। ২১ বছর বয়স্ক ভাদিম তার দোষ স্বীকার করে ক্যাটেরিনার উদ্দেশ্যে বলেন, আমি আমার অপরাধ মেনে নিচ্ছি। আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর মাত্র চারদিনের মাথায় ইউক্রেনের গ্রাম চুপাখিভকায় এই যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত হয়। ভাদিম রুশ সেনাবাহিনীর একজন ট্যাংক কম্যান্ডার। বুধবার মামলার প্রথম শুনানির দিনই তিনি তার দোষ স্বীকার করেন

উভয় দিনই তাকে বেশ শান্ত দেখা গেছে। তবে তিনি ভীত ছিলেন তা তার চোখে মুখে স্পষ্ট। ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা এই মামলা সম্পর্কে কিছু জানেন না এবং ইউক্রেনের সঙ্গে কূটনীতিক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ভাদিমকে আইনি সহায়তা দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। প্রসিকিউটররা ভাদিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন বিচারকের কাছে।

ক্যাটেরিনা আদালতে জানান, ঘটনার দিন তিনি বাড়ি থেকে একটি গুলির শব্দ শুনতে পান। তিনি এসময় চিৎকার করে তার স্বামীকে ডাকেন এবং তাকে খুঁজতে ছুটে যান। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখেন তার মাথায় গুলি করা হয়েছে এবং তিনি এরইমধ্যে মারা গেছেন। ঘটনার সময় তার স্বামীর কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না এবং বেসামরিক পোশাক পরাই ছিলেন তিনি। তারপরেও তাকে হত্যা করেন ভাদিম। মৃত স্বামীকে দেখে কীভাবে চিৎকারে ফেটে পড়েছিলেন সেই বর্ণনাও আদালতকে দিয়েছেন ক্যাটেরিনা। তবে ভাদিমের উপরে কোনো ক্ষোভ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাই তাকে যদি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবন্দী বিনিময় চুক্তির অধীনে ফেরত দেয়া হয় তাতে তার সম্মতি রয়েছে। তিনি চান, রাশিয়ার হাত থেকে ইউক্রেনীয় সেনারা মুক্তি পাক।

আরও