হাওরে বানিয়েছি আবাসিক এলাকা , পানি যাবে কোথায়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারত সফর শেষে ঢাকায় ফিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বন্যা আমাদের দেশে সব সময়ই হয়। আমাদের সব সময় পানি নিয়েই থাকতে হবে। বন্যা কখনো বন্ধ করতে পারবেন না। তবে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি যাতে কমানো যায় সেইটা এখন চেষ্টা করতে হবে। সে জন্য আমরা তাদের (ভারত) সাজেশন্স দিয়েছি- আরলি ওয়ার্নিং সিস্টেম, শেয়ারিং ডেটা, শেয়ারিং ফরকাস্ট নিয়ে আমরা উভয়েই এগুলো নিয়ে উই হ্যাভ টুগেদার।

ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে মঙ্গলবার শাহজালাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, এবারে সিলেট এলাকায় বন্যায় তিন দিনে ২৫০০ মিলিমিটির বৃষ্টিপাত আসাম ও মেঘালয়ে হয়ছে। তার ফলে এত বেশি পানি এক সঙ্গে এসেছে। বলা হচ্ছে ৭০-৮০ বছরে এত বড় বন্যা হয়নি। আমি সিলেটের ছেলে। সরাজীবন বন্যা দেখিছি। আগে বহু বড়-বড় জলাশায়, পুকুর-দিঘি ও খাল ছিল। সেগুলো আমরা ভরে ফেলেছি। হাওরের মধ্যে আবাসিক এলাকা বানিয়ে ফেলেছি। এখন পানি যাবে কোথায়?

তিনি বলেন, কুশিয়ারা ও সুরমা নদীতে ৫০ বছরেও ড্রেজিং হয়নি। অনেক প্ল্যান হলেও বাস্তবায়ন হয়না। পন্ডিতরা বলেন যে ১০ মিটার নদীর গভীরতা কমে গেছে।

ভারতের সঙ্গে খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আমাদের পানি বণ্টন ও বন্যা মোকাবেলার বিষয় তুলে ধরেছি। পানির ঢলের তথ্য বিনিময়ের কথা বলেছি। যাওয়ার আগে একাধিক মিটিং হয়েছে। নতুন পুরনো সব ইস্যুতেই আলোচনা হয়েছে। আমরা আমাদের বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। উচ্চপর্যায়ে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গিকার করেছি ও জোর দিয়েছি। তারা তাদের বক্তব্যে দিয়েছেন।

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফর নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ নিয়ে আলোচনা করছি। আগস্টে যাওয়া যাবে না। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় ভাগে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেবেন। তারাও সেভাবে একটি তারিখ দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের বিশেষ উদ্যোগ চাই। তাদের বলেছি মিয়ানমার আমাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। তোমরা মিয়ানমার ও আমাদের উভয়েরই বন্ধু। তাই তোমাদের বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। এটা শেষ না হলে অনিশ্চয়তা দেখা দিবে। এটা তোমারে জন্যও ক্ষতি। পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য ক্ষতি। তারা এটা চেষ্টা করেছে। তারা ওখানে (মিয়ানমার) কিছু বাড়িঘরও করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রীদের বৈঠক জেআরসির জন্য বারবার তাগাদা দিলেও ভারত এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কিন্তু তারা শুধু বলে যে হবে। এখনও নির্দিষ্ট তারিখ পাইনি। আশা করব প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে জেআরসি বৈঠক হবে।

তিনি আরও বলেন, কয়েকটি নদীর সীমানা চিহ্নিত করা নিয়ে সমস্যার কথা উঠেছে। এবারের বৈঠকে প্রস্তাব করা হয়েছে যে যৌথভাবে এটি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

আরও