হামলার আগে-পরে খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল ‘উদ্দেশ্যমূলক’

২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশ চলাকালে গ্রেনেড হামলার আগে ও পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বেশকিছু বক্তব্যকে উদ্দেশ্যমূলক ও আপত্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতারা। খালেদা জিয়ার নানা মন্তব্য বিশ্লেষণ করে তারা বলছেন, একের পর এক বক্তৃতায় শেখ হাসিনাকে কটাক্ষ করে কথা বলতে দেখা গেছে। এমনকি যখন হামলার শিকার হয়ে শেখ হাসিনা কোনোমতে বেঁচে গেলেন তখনও সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি সহানুভূতি না জানিয়ে, বিচারের আশ্বাস না দিয়ে কটাক্ষ করেছেন।

২০২০ সালে খোদ শেখ হাসিনা দিবসটি স্মরণে আয়োজিত সভায় বক্তৃতাকালে বলেন, “যখন কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল, তার আগে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’ আবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগে খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল, ‘শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, বিরোধীদলীয় নেতাও কোনোদিন হতে পারবেন না।’ এই ভবিষ্যদ্বাণী খালেদা জিয়া কীভাবে দিয়েছিলেন? কারণ তাদের চক্রান্তই ছিল— আমাকে তারা হত্যা করে ফেলবেন। তাহলে তো আমি কিছুই হতে পারবো না। প্রতিটি ঘটনার আগে খালেদা জিয়ার বক্তৃতা অনুসরণ করলেই বোঝা যায়, তিনি এই কথাগুলোই বলেছেন।”

আক্ষেপের সুরে সে দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “একটা দেশে এ রকম একটা ঘটনা ঘটে গেছে! আমি বিরোধী দলের নেতা, আমার ওপর এমন একটা গ্রেনেড হামলা হলো! আওয়ামী লীগের মতো একটি দল, যে দল দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, সেই দলের একটা সভায় এমন একটা গ্রেনেড হামলা! অথচ তৎকালীন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) সংসদে দাঁড়িয়ে বলে দিলেন, ‘উনাকে আবার কে মারবে?’”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এখন তো বলতে হয় যে, আপনিই তো মারবেন। চেষ্টা করেছেন, ব্যর্থ হয়েছেন; সেই জন্য আর পারছেন না। সে দিন এ রকম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলে পার্লামেন্টে এই হামলা সম্পর্কে আমাদের কোনও কথা বলতে দেয়নি। অথচ আমাদের নেতাকর্মী ও পার্লামেন্ট মেম্বাররা তখন আহত অবস্থায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। আমাদের সে অধিকারটুকুও ছিল না যে, পার্লামেন্টে আলাপ-আলোচনা করতে পারি। আমাদের কাউকে মাইক দেয়নি, আলোচনাও করতে দেয়নি। এ থেকে কী প্রমাণ হয়? তারা যদি সরাসরি জড়িত না থাকবে, তাহলে কি এরকমভাবে বাধা দিত?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তৎকালীন সরকার থেকে পৃষ্ঠপোষকতা করা না হলে এমন গ্রেনেড হামলা চালানো সম্ভব ছিল না। বিএনপি-জামায়াত সরকার এ হামলা চালাতে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের জড়ো করেছে, প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং তাদের নিরাপদে বিদেশে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। তারা মনে করেছিল, হামলায় আমি মারা গেছি। কিন্তু যখন জানলো, আমি মারা যাইনি, তখনই জঙ্গিদের দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিল তারা।’

বর্তমান সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি আতিউর রহমান আতিক অষ্টম জাতীয় সংসদেও এমপি ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ওই সময় জাতীয় সংসদে গ্রেনেড হামলা নিয়ে আমরা আলোচনার প্রস্তাব করলে তা নাকচ করে দেওয়া হয়। পরে সরকারি দল সংসদে একতরফা আলোচনা করে।’

তিনি বলেন, ‘ওই সময়কার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গ্রেনেড হামলা নিয়ে আমাদের নেত্রী সম্পর্কে সংসদে যে বক্তব্যটা দিয়েছিলেন সেটা সংসদ নেতা ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শিষ্ঠাচারের মধ্যেও পড়ে না। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছিলেন। বাস্তবতা হচ্ছে, ওই সময়কার সরকারের পরিকল্পনায় গ্রেনেড হামলা হয়েছিল বলেই দায় এড়াতে তারা এ ধরনের বক্তব্য দেন।’

ইতিহাস বলছে, বারবার বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের হত্যাচেষ্টা ও আওয়ামী নেতৃত্বকে নির্মূলের ষড়যন্ত্র করেছে প্রতিপক্ষ বিএনপি জামাত চক্র। এ পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ কতোটা টিকিয়ে রাখা সম্ভব প্রশ্নে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। জনগণ জানে, বিএনপি কীভাবে একটি দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আর জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে বলেই আওয়ামী লীগ বিগত ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে।’

 

আরও