নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছে ভারত
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:২৫:১৪,অপরাহ্ন ১১ নভেম্বর ২০২৩ | সংবাদটি ১৯৫ বার পঠিত
নয়াদিল্লিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে ‘টু প্লাস টু মিনিস্টারিয়াল ডায়লগ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল। সংলাপে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক অন্যান্য ইস্যুর পাশাপাশি উঠে এসেছে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গও। এ সময় প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরেছে ভারত।
আলোচনা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা বলেছেন, সংলাপে বাংলাদেশের বিষয়ে তার সরকারের অবস্থান ‘স্পষ্টভাবেই’ তুলে ধরা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এ সংলাপে অংশ নেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এরপর বিকালে সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার বিষয় নিয়ে কথা বলেন বিনয় মোহন কোয়াত্রা। বাংলাদেশসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি ভারত বরাবরই শ্রদ্ধাশীল। বৈঠকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের নেতারা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক’ করার বিষয়ে নিয়মিতভাবেই বক্তব্য দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ‘চাপ’ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য ভিসা নীতিও ঘোষণা করেছে দেশটি, যার প্রয়োগও এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে গতকাল বিনয় মোহন কোয়াত্রার কাছে জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘উদ্বেগ’ নিয়ে সংলাপে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা।
এর জবাবে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের বিষয়ে আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি। তৃতীয় কোনো দেশ নিয়ে মন্তব্য করা আমাদের নীতির মধ্যে পড়ে না। আমি মনে করি যখন বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা আসে, বাংলাদেশে নির্বাচনের কথা আসে, তখন এটা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।’
বাংলাদেশের বিষয়ে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং অংশীদার হিসেবে আমরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করি। একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল জাতির জন্য দেশটির জনগণের স্বপ্নকে সমর্থন করে যাব। আমরা বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে যেভাবে দেখি, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আমাদের অবস্থান একই। এটিই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বলেছি।’
ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব আরমানে গিরিধা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি। এর আগে অরিন্দম বাগচিও গত বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একই কথা বলেছিলেন।
ওইদিন তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানকার মানুষ নিজেরাই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন, এখানে আমাদের কিছু বলার থাকতে পারে না। বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে বলব, আমরা সে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করি ও মর্যাদা দেই।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, অরিন্দম বাগচির বৃহস্পতিবারের বক্তব্য এবং গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘টু প্লাস টু’ পর্যায়ের বৈঠক শেষে দেয়া বিনয় মোহন কোয়াত্রার ভাষ্যে অনেকটাই স্পষ্ট যে বাংলাদেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে এখনো একমত নয় ভারত।
তবে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব কেমন ছিল, সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি বিনয় মোহন কোয়াত্রা।
তিনি জানান, টু প্লাস টু সংলাপে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব, সাপ্লাই চেইনের সুরক্ষা, অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও উদ্ভূত নানা সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে কথা বলেছেন দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।




