ঢাকা-দিল্লি উত্তেজনা তুঙ্গে, ভারতের নতুন বার্তা
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:৩৬:০১,অপরাহ্ন ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ | সংবাদটি ১৩ বার পঠিত
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান চরম কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও আসন্ন সাধারণ নির্বাচন দুই দেশের সম্পর্কের পুনর্গঠনে একটি নতুন ‘সমঝোতার পথ’ খুলে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান।
অনলাইন সাময়িকী ফরেন পলিসি-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে আটলান্টিক কাউন্সিলের এই সিনিয়র ফেলো উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের তিক্ততা ঝেড়ে ফেলে ভারত এখন বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য সরকারের প্রতি নতুন ধরনের ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
নিবন্ধে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা এবং ঢাকায় জানাজায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতি দিল্লির কৌশলগত পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। কুগেলম্যানের মতে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের জোট ভেঙে বেরিয়ে আসায় বিএনপি এখন ভারতের কাছে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।
তিনি লেখেন, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে অবনতি শুরু হয়, যা বর্তমানে ক্রিকেটের ময়দান পর্যন্ত গড়িয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে এবং বাংলাদেশ জাতীয় দল ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
কুগেলম্যান তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, একদিকে বাংলাদেশিরা মনে করেন ভারত দীর্ঘদিন ধরে তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে, অন্যদিকে ভারতীয়দের ধারণা শেখ হাসিনাবিহীন বাংলাদেশে কট্টরপন্থীদের উত্থান ঘটছে। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানানো ঢাকার অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে, বিশেষ করে যখন বাংলাদেশি আদালত তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে।
নিবন্ধে আরও বলা হয়, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্ক উন্নয়নের পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশে প্রভাবশালী ইসলামপন্থী দলগুলো ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরোধী, যা নতুন সরকারের রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত করতে পারে।
অন্যদিকে ভারতে সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ এবং বাংলাদেশে কিছু মানবাধিকারকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা দিল্লির দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও কঠোর করেছে। তবে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের জাতীয় ঐক্যের আহ্বান এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত ভারতকে আশাবাদী করছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও স্পষ্ট করেছেন, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক হবে কেবল ‘সমঅধিকারভিত্তিক’।
পরিশেষে কুগেলম্যান মনে করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দুই দেশের জন্য সম্পর্কের বরফ গলানোর এক বড় সুযোগ। তবে এই পথ তখনই সুগম হবে, যখন উভয় পক্ষ রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে আপসে পৌঁছাতে প্রস্তুত হবে। ভারত ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশে নির্বাচিত যেকোনো সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তাই সম্পর্ক পুনর্গঠনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দিল্লি ও ঢাকার নেতৃত্বের সাহসিকতা ও বাস্তবমুখী কূটনীতির ওপর।




