পবিত্র ঈদেও বন্ধ আল-আকসা
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:০১:৩৪,অপরাহ্ন ২০ মার্চ ২০২৬ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত
১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম পবিত্র রমজানের শেষে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মসজিদ প্রাঙ্গণ বন্ধ রাখায় মুসল্লিরা বাধ্য হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করছেন পুরোনো শহরের (ওল্ড সিটি) বাইরে।
শুক্রবার সকালে শত শত মুসল্লিকে ওল্ড সিটির প্রবেশপথে বাধা দেয় ইসরায়েলি পুলিশ। ফলে তারা মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে বাইরে নামাজ আদায় করেন।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রমজানজুড়ে আল-আকসা প্রাঙ্গণে মুসলিমদের প্রবেশ কার্যত সীমিত করে দেয় ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। এতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মসজিদের গেটে জড়ো হয়ে নামাজ পড়তে বাধ্য হন।
তবে ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, নিরাপত্তার অজুহাতে আল-আকসা মসজিদ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করাই ইসরায়েলের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। মুসলিমদের কাছে এই স্থান ‘হারাম আল-শরিফ’ নামে পরিচিত, যেখানে সপ্তম শতাব্দীর ডোম অব দ্য রক অবস্থিত।
স্থানীয় বাসিন্দা হাজেন বুলবুল বলেন, “জেরুজালেমের মুসল্লিদের জন্য এটি সবচেয়ে দুঃখের দিন। এটি হয়তো প্রথম, কিন্তু শেষ নয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ ক্রমেই বাড়ছে।”
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওল্ড সিটিতে ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও ধর্মীয় কর্মীদের গ্রেপ্তার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একইসঙ্গে মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশও বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নামাজ চলাকালেও পুলিশ অভিযান চালিয়ে অনেককে আটক করা হয়েছে।
ঈদের আগে সাধারণত জমজমাট থাকা ওল্ড সিটি এদিন ছিল প্রায় ফাঁকা। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়, শুধু ওষুধ ও জরুরি খাদ্যপণ্যের দোকান খোলা ছিল। এতে ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।
আল-আকসার খতিব ও জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ একরিমা সাবরি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে ফতোয়া দিয়ে বলেছেন, মসজিদের যত কাছাকাছি সম্ভব ঈদের নামাজ আদায় করতে। তবে এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ও তল্লাশি জোরদার থাকায় সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়ছে।
এ ঘটনায় আরব লীগ আল-আকসা বন্ধ রাখাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। একইসঙ্গে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), আরব লীগ ও আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশন যৌথ বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার ও উপাসনার স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব পদক্ষেপ চলতে থাকলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে এবং সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে গাজায় চলমান মানবিক সংকটের মধ্যেই ঈদ উদযাপন করছে মানুষ। অব্যাহত হামলা, বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্যসংকটের মধ্যে আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।
গাজার দেইর আল-বালাহে আশ্রয় নেওয়া সাদিকা ওমর বলেন, “ঈদের আনন্দ পূর্ণ নয়। কেউ ঘর হারিয়েছে, কেউ স্বজন। তবুও আমরা চেষ্টা করি ধর্মীয় শিক্ষা অনুযায়ী আনন্দ ভাগ করে নিতে।”
খান ইউনিসের বাসিন্দা আলা আল-ফাররা বলেন, “গত বছরের মতো এবারও আমাদের চলাচল সীমিত। প্রতিদিনই হঠাৎ বিমান হামলার ভয় থাকে।”
যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও কিছুটা উৎসবের আবহ ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছে মানুষ। অস্থায়ী চুলায় তৈরি হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খাবার, তবে অধিকাংশ পরিবারের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে বাজারের পণ্য।




