ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১
প্রকাশিত হয়েছে : ৩:২০:১৩,অপরাহ্ন ০২ এপ্রিল ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় মালুকু সাগরে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। এতে অন্তত একজন নিহত, বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও সুনামির ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৮ মিনিটে মালুকু সাগরের তলদেশের ৩৫ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। এই স্থানটি দেশটির টারনেট দ্বীপের অদূরে।
ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা অন্তরার বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, উত্তর সুলাওয়েসির মানাদো শহরে আংশিক ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে ৭০ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন, আরেকজন ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে পা ভেঙে আহত হয়েছেন। ভবনটি স্থানীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করতো।
ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প হলেও কিছু বাসিন্দা বিবিসিকে বলেছেন, এটি গত অন্তত ছয় বছরের মধ্যে তাদের অনুভব করা অন্যতম প্রবল ভূমিকম্প।
রয়টার্স ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি-র বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পাঁচটি এলাকা থেকে সুনামির ঢেউয়ের খবর পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি শূন্য দশমিক ৭৫ মিটার উচ্চতার ছিল আর এটি উত্তর সুলাওয়েসির উত্তর মিনাহাসা এলাকায় হয়েছে।
বিএমকেজি জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর থেকে অন্তত ৫০টি পরাঘাত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটি ৫ দশমিক ৮ মাত্রার ছিল।
বিমএকেজি প্রথমে আধা মিটার থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত সম্ভাব্য সুনামি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছিল, কিন্তু পরে তা তুলে নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যেখানে ভূমিকম্পটি হয়েছে তার আড়াইশো কিলোমিটারের মধ্যে গত ৫০ বছরের মধ্যে ৭ মাত্রার বা তার বেশি শক্তির নয়টি ভূমিকম্প হয়েছে, কিন্তু কোনোটিতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
যদিও এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে টারনেট ও সুলাওয়েসির মতো ঘনবসতিপূর্ণ দ্বীপ রয়েছে, তারপরও আরও হতাহতের ‘সম্ভাবনা কম’ বলে জানিয়েছে ইউএসজিএস। এই ভূমিকম্পে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতিও সীমিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসব সত্ত্বেও ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।




