তেল সংকটে সীতাকুণ্ডে থেমে গেল বাস, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
প্রকাশিত হয়েছে : ১:৩৮:২৫,অপরাহ্ন ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
হানিফ পরিবহনের একটি বাস। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌঁছায় বাসটি। এরপর তেল শেষ হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপরই বাসটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গন্তব্যে যাওয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।
আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বানুর বাজার এলাকায় বাসটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট থেকে রওনা দেয় বাসটি।
আজ সকাল আটটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের ওপরেই বাসটি থেমে আছে। যাত্রীদের কয়েকজন বন্ধ বাসটিতে বসে রয়েছেন। কয়েকজন রাস্তায় দাঁড়িয়ে অন্য কোনো যানবাহনে ওঠার চেষ্টা করছেন। যাত্রীরা জানান, জ্বালানি তেল নিতে বাসটির চালকের সহকারী বালতি নিয়ে আশপাশের ফিলিং স্টেশনে ঘুরছেন। তবে এক ঘণ্টা পার হলেও বাসটির জন্য জ্বালানি তেলের কোনো ব্যবস্থা করা যায়নি।
বাসের যাত্রীদের একজন ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফে যাওয়ার উদ্দেশে সিলেট থেকে বাসটিতে ওঠেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় বাসটি যাত্রা শুরু করে। এরপর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে সারিতে অপেক্ষার পর জ্বালানি তেল নিয়েছে বাসটি। ১০ লিটার ২০ লিটার করে তেল দেওয়া হয়। ১০ লিটারের বেশি তেল পেতে দুটি ফিলিং স্টেশনে বাড়তি টাকাও দিয়েছেন চালক। এরপরও জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বাসের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেল।
বাসের আরেক যাত্রী মোবারক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সকাল ৯টায় কক্সবাজারে আমার পেশাগত একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার কথা। অথচ সীতাকুণ্ডেই আটটা বেজে গেল। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে আদৌ পারব কি না জানি না।’
বাসচালক ওসমান গনি গণমাধ্যমকে বলেন, সিলেট থেকে কক্সবাজার যেতে তাঁর বাসে ১৬০ লিটার জ্বালানি তেল লাগে। তিনি যাত্রা শুরু করেছেন ৭০ লিটার তেল দিয়ে। পথে অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনটিতে সামান্য তেল পেয়েছেন। বাকি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তেল পাননি। তাই বাসের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেছে। সীতাকুণ্ড থেকে কক্সবাজার যেতে তাঁর আরও অন্তত ৬০ লিটার জ্বালানি তেল লাগবে।
ওসমান গনি বলেন, ‘কিছু যাত্রী চট্টগ্রামে নামার কথা। ওই যাত্রীদের কয়েকজনকে কিছু টাকাপয়সা দিয়ে লোকাল গাড়িতে তুলে দিচ্ছি। বাকি যাত্রীদের আমাদের কোম্পানির অন্য একটি গাড়িতে তুলে দেব। আর কোনো উপায় নেই। তেলের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।’




