৩৭% কারখানার শ্রমিকদের ঈদ বোনাস এখনো বাকি
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৪৪:৫১,অপরাহ্ন ২৫ মে ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
দেশের আটটি শিল্প অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার শিল্পকারখানার মধ্যে সাড়ে ৩৬ শতাংশ গতকাল রোববার বিকেল চারটা পর্যন্ত তাদের শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি। শুধু তা–ই নয়, ৫ শতাংশ কারখানায় এখনো গত এপ্রিল মাসের বেতন বাকি রয়ে গেছে।
দেশের সব কারখানায় শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ২১ মের মধ্যে এবং মাসিক বেতন নির্ধারিত তারিখে আবশ্যিকভাবে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ১৪ মে ঢাকার সিরড্যাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) এবং আরএমজিবিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের সভায় মন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।
অন্যান্য ঈদের মতো এবারও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব শ্রমিকের বেতন-বোনাস না পাওয়াকে মালিকদের একটি অংশের গাফিলতি বলে মনে করেন শ্রমিকনেতারা। তাঁরা বলেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে বেতন–বোনাস না দিলে সরকারের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় না। সে জন্যই মূলত পরিস্থিতির উন্নতি হয় না।
অন্যদিকে শিল্পমালিকেরা বলছেন, চার সপ্তাহের মধ্যে এপ্রিলের বেতন, ঈদ বোনাস ও চলতি মে মাসের আংশিক অগ্রিম বেতন দিতে গিয়ে অনেক শিল্পকারখানা আর্থিক সংকটে পড়েছে। আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবার বেতন-বোনাস পরিশোধ হবে অনেক কারখানায়।
বেতন-বোনাস পরিশোধের চিত্র
সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট—এই আটটি শিল্পাঞ্চলের ১০ হাজার ২৩৮টি শিল্পকারখানা পর্যবেক্ষণ করে শিল্প পুলিশ। সংস্থাটি জানিয়েছে, গতকাল বিকেল চারটা পর্যন্ত ৫৩৫ কারখানার শ্রমিকদের গত এপ্রিল মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠান ১১৫টি।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৬ হাজার ৪৯৩টি অর্থাৎ ৬৩ শতাংশ কারখানা বোনাস দিয়েছে। এর মানে এখনো ৩ হাজার ৭৪৫ বা ৩৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ কারখানার বোনাস দেওয়া বাকি।
শিল্প পুলিশ জানায়, তাদের পর্যবেক্ষণে থাকা বিজিএমইএর সদস্য ১ হাজার ৭৯০ কারখানার মধ্যে ৩৫ শতাংশ গতকাল পর্যন্ত শ্রমিকের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি।
অবশ্য তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, গত শনিবার পর্যন্ত তাদের সচল ২ হাজার ১৩৪ কারখানার মধ্যে ৯২ শতাংশ বোনাস দিয়েছে। ৫৩২টি কারখানা চলতি মাসের আংশিক অগ্রিম বেতন দিয়েছে।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘দুটি কারখানার বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা ছিল। তার মধ্যে একটি সমাধান করেছি। আরেকটির সমাধানের চেষ্টা চলছে।’ তিনি আরও বলেন, বেতন বোনাস বাকি থাকা কারখানাগুলো কাল ও পরশু (আজ ও কাল) পরিশোধ করে ছুটি দিয়ে দেবে।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাদের পর্যবেক্ষণে থাকা বিকেএমইএর সদস্য ৭০৮টি কারখানার মধ্যে ৩৯ শতাংশের বোনাস বাকি রয়েছে।
এ নিয়ে নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘আমাদের সচল সদস্য ৭৮৮ কারখানার মধ্যে ৯৯ দশমিক ১১ শতাংশ কারখানা গত মাসের বেতন দিয়েছে। ৮০ শতাংশ কারখানা চলতি মাসের ১০ বা ১৫ দিনের অগ্রিম বেতন পরিশোধ করেছে। আর বেশ কিছু কারখানা সোম, মঙ্গল ও বুধবার ছুটির সময় বোনাস দেবে।’
জানতে চাইলে ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, পোশাকশিল্পের মালিকেরা রপ্তানি প্রণোদনার অর্থ পেয়েছেন। তারপরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকের বেতন ও বোনাসের টাকা পরিশোধ না করাটা লজ্জাজনক।




