চন্দ্রায় ১৫ কিলোমিটার যানজট, অতিরিক্ত ভাড়ায় ক্ষোভ
প্রকাশিত হয়েছে : ১০:৪০:৫৭,অপরাহ্ন ২৫ মে ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে যানবাহনের চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার থেকে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ছুটি শুরু হয়েছে। কর্মজীবীরা পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামের উদ্দেশে ছুটছেন। এতে গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল এই দুই মহাসড়কে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নেমেছে।
এই সুযোগ বুঝে পরিবহনে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ি, সফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎ, চন্দ্রা, খাড়াজোড়া ও বাইমাইল এলাকায় যাত্রীদের চাপ বেশি দেখা গেছে।
সকাল থেকেই দুই মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ শুরু হয়। এরমধ্যে বৃষ্টি শুরু হলে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। দুপুরে কিছু কারখানা ছুটি হলে বিকালে যাত্রীর চাপ আরও বেড়ে যায়।
যানবাহনের সংকট না থাকলেও পরিবহনগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। রপ্তানি থেকে চন্দ্রার নিয়মিত ভাড়া ২০ থেকে ৩০ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। টাঙ্গাইলের ভাড়া ৫০০ টাকা এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানের ভাড়া এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী-নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, “চন্দ্রা অংশ দিয়ে দেশের ২৩ জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করলেও ঈদের সময় তা ১৫ থেকে ২০ লাখে পৌঁছে যায়। ফলে অতিরিক্ত চাপের কারণে পুরোপুরি যানজট এড়ানো সম্ভব হয় না। এবারের ঈদেও ব্যতিক্রম নয়।”
সাংবাদিক গোলাম মর্তুজা অন্তু বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হন। তিনি চন্দ্রায় কয়েক দফা যানজটের কবলে পড়েন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকার ফ্লাইওভারে পৌঁছান। রাত পৌনে ৮টার দিকেও তিনি চন্দ্রা পার হতে পারেননি।
গোলাম মর্তুজা অন্তু অভিযোগ করেন, “পুলিশের সামনেই চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় মহাসড়কের উপর বাস থামিয়ে যাত্রী তুলছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের।”
রংপুরগামী যাত্রী আবুল কালাম বলেন, “আমি সাভারে রপ্তানিতে চাকরি করি। দুপুরে বাসে উঠি, রাস্তাঘাটের খুব খারাপ অবস্থা, যানজট। একদিকে যানজট, অপরদিকে অধিক ভাড়ায় যাত্রীরা অতিষ্ঠ। সাভারের রপ্তানি হতে চন্দ্রার ভাড়া ২০ টাকা। কিন্তু আজকে ১৫০ টাকা নিল। চন্দ্রায় এসে দেখি, গাড়ি যেন অচল হয়ে পড়েছে।”
শাহজালাল নামে এক যাত্রী বলেন, “৩০ মিনিট ধরে সফিপুর ফ্লাইওভারে বসে আছি। আগেই বের হয়েছিলাম কিন্তু সেই যানজটে পড়লাম। এখন দেখা যাক, গ্রামের বাড়ি বগুড়া যেতে কত সময় লাগে।”
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এলেঙ্গা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এবং চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কেও প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
দুপুরের পর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জ থেকেও যাত্রীরা গাজীপুর হয়ে বাড়ি ফিরছেন। টঙ্গী, বোর্ড বাজার, ভোগড়া, চৌরাস্তা, রাজেন্দ্রপুর ও মাওনা এলাকায় চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ময়মনসিংহ যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন মরিয়ম বেগম। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বাস না পাওয়ায় ভোগান্তির কথা জানান তিনি।
টঙ্গী এলাকায় দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো. সফিক হোসেন বলেন, “সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে কলেজ গেট পর্যন্ত যানবাহন ধীরগতিতে চলেছে। টানা বৃষ্টির কারণে ভোগড়া এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে গেছে। একই সঙ্গে কারখানার ছুটি শুরু হওয়ায় সড়কে যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।”
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘‘সোমবার ৪৫ শতাংশ কারখানায় ছুটি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার আরও ৪৭ শতাংশ কারখানা ছুটি হবে। ২৭ মে ৮ শতাংশ কারখানা ছুটি পাবে এবং মাত্র ৩ শতাংশ কারখানা খোলা থাকবে।
জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূইয়া বলেন, গাজীপুর চৌরাস্তা, ভোগড়া ও চন্দ্রাসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১৮ জন নির্বাহী হাকিম দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সহায়তায় বিজিবি, আনসার ও পুলিশ সদস্যরা মাঠে আছেন। বিশেষ করে গাজীপুর চৌরাস্তার যানজট নিয়ন্ত্রণে ১০ সদস্যের একটি বিজিবি দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।




