জাতীয় ঈদগাহে ‘বহুমাত্রিক’ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:৪৬:৩৪,অপরাহ্ন ২৭ মে ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
জাতীয় ঈদগাহে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। বুধবার (২৭ মে) জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার জামাতের জন্য জাতীয় ঈদগাহের সর্বশেষ প্রস্তুতি ঘুরে দেখার পর এ কথা বলেন তিনি।
এছাড়া কোরবানির এই ঈদে ফাঁকা বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক এলাকার জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেছেন তিনি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সামগ্রিক প্রেক্ষাপট, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি সমন্বিত প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে কেন্দ্র করে চার থেকে ছয় স্তরে নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে এবং আমাদের পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন,ঈদ জামাত কেন্দ্রিক নিরাপত্তায় আমাদের এক হাজার এবং তার আশেপাশে এই চার থেকে ছয় স্তরের, এখানে আমাদের ১৫০০ পুলিশ সদস্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন এবং সারা মহানগরীতে ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।
ঈদ জামাত নিয়ে হুমকির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, হুমকির বিষয়ে আমি বলছি যে, উস্কানিমূলক বিভিন্ন রকম প্রচারণা করতে পারে। যেমন ‘সাইবার ফিল্ডে’ বিভিন্ন রকম প্রচারণা চালাতে পারে এবং সেটার ব্যাপারে আমরা সজাগ আছি। আমাদের সাইবার পেট্রোল টিম সার্বক্ষণিকভাবে সেটা নজরদারি করছে।
ঈদের বাড়তি নিরাপত্তার কারণে ঢাকা মহানগরীর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পুলিশ সদস্যের ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে বলে জানান কমিশনার।
জাতীয় ঈদগাহের প্রবেশ পথে বিশেষ তল্লাশি, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ওয়াজ টাওয়ার স্থাপন, ড্রোন মনিটরিং, ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, সোয়াত, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট স্ট্যান্ডবাই রাখা, ফায়ার সার্ভিস, ইমারজেন্সি মেডিকেল টিম, জাতীয় ঈদগাহের অভ্যন্তরে পুলিশ ‘সাব-কন্ট্রোল রুম’, ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার’ স্থাপন প্রভৃতি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন ডিএমপি কমিশনার।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামের সঙ্গে ডিএমপি কমিশনার জাতীয় ঈদগাহের সর্বশেষ প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন। এর পরে ব্রিফিংয়ে আসেন ডিএমপি কমিশনার।
ঢাকার পুলিশপ্রধান মোসলেহ উদ্দিন বলেন, মুসল্লিদের এর প্রতি ডিএমপির বিশেষ অনুরোধ থাকবে, যারা ঈদগাহে আসবেন তারা পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে ঈদগাহে আসবেন এবং নিরাপত্তাজনিত তল্লাশিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। গাড়িযোগে আগত মুসল্লিদের ‘রোড ব্লক’ এলাকায় নেমে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ এবং নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিং করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। জাতীয় ঈদগাহ কেন্দ্রিক ট্রাফিক ডাইভার্সন এবং পার্কিং নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, শুধুমাত্র জায়নামাজ এবং প্রয়োজনে ছাতা সঙ্গে নিয়ে আসা জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের ব্যাগ, ধারালো বস্তু, ধার্য পদার্থ বা অপ্রয়োজনীয় ধাতব বস্তু সঙ্গে না নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
জামাত শেষে তাড়াহুড়া না করে সুশৃঙ্খলভাবে বের হওয়ার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশের সদস্য অথবা জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ এ জানাতে আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ঢাকা ছেড়েছে বহু মানুষ, এবার সরকারি ছুটি টানা সাত দিন। এ অবস্থায় ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরে ডিএমপি কমিশনার।
মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ফাঁকা বাসা বাড়ি এবং বাণিজ্যিক এলাকার জন্য আমরা আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রণয়ন করেছি। ঈদের ছুটিতে নগরীর অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় সেসব এলাকার নিরাপত্তায় যে সমস্ত ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করেছি সেটি হচ্ছে-মোবাইল পেট্রোল, ফুট পেট্রোল ও মোটরসাইকেল পেট্রোল জোরদার করেছি। সিসিটিভির মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশিং এবং বিট পুলিশিং ব্যবস্থাকে আরো জোরদার করা হচ্ছে। ব্যাংক, এটিএম বুথ, শপিং মল, মার্কেট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। আবাসিক, বাণিজ্যিক এলাকা ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীদের ডিউটি তদারকি করা হচ্ছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি এবং যানবাহনের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
ঢাকার পুলিশপ্রধান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোন ধরনের গুজব, উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে।




