স্টার্টআপ খাতে ১০০০ কোটি টাকার তহবিলের পরিকল্পনা আছে: সংসদে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ৮:২৪:৩৩,অপরাহ্ন ০৯ জুন ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
প্রযুক্তিনির্ভর নতুন উদ্যোগ স্টার্টআপ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে তহবিলের আকার ধাপে ধাপে ১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বলেছেন, স্টার্টআপ বাংলাদেশ সম্প্রতি প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ‘ফান্ড অব ফান্ডস’ এবং ৩০০ কোটি টাকার ‘কো-ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। অভিজ্ঞ ফান্ড ম্যানেজারদের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে এসব তহবিল ব্যবহার করা হবে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী এ তথ্য দেন।
তিনি বলেন, স্টার্টআপ বাংলাদেশের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫৫টি স্টার্টআপ কোম্পাানিতে বিনিয়োগের অনুমোদন মিলেছে। এর মধ্যে আইনি দিক থেকে সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাইয়ে অসঙ্গতি এবং বিনিয়োগের শর্তে অমিল থাকায় ১৯টির বিনিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হয়েছে। চূড়ান্তভাবে ৩৬টি স্টার্টআপ উদ্যোগে প্রায় ১০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।
বিনিয়োগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চালডাল লিমিটেড, টেন মিনিট স্কুল লিমিটেড, সেবা প্ল্যাটফর্ম লিমিটেড এবং ট্যুর বুকিং বাংলাদেশ লিমিটেডের নাম তুলে ধরেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, এসব পোর্টফোলিও স্টার্টআপে ৭ হাজারের বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর গড়ে অন্তত পাঁচ গুণ রেভিনিউ বা বিক্রি বেড়েছে। স্টার্টআপগুলো ১৮০ কোটি টাকার বেশি কর দিয়েছে, যা স্টার্টআপ বাংলাদেশের বিনিয়োগের ১ দশমিক ৭ গুণ।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পোর্টফোলিও স্টার্টআপগুলোর ৮০ শতাংশ বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি রয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং পরবর্তী ধাপের দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সংগ্রহেও সফলতা পেয়েছে।
স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য সুদবিহীন বা সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা যায় কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, স্টার্টআপ বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি ঋণ দিতে পারে না।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যক্রম হল, সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে ‘ইক্যুইটি ও ইক্যুইটি-লিংকড ইনস্ট্রুমেন্টে’ বিনিয়োগের মাধ্যমে তাদের প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা দেওয়া।
স্টার্টআপ খাতে বিদ্যমান অর্থায়ন ঘাটতি পূরণে সরকার একাধিক বিশেষায়িত ও ‘ম্যান্ডেটেড ফান্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটর রয়েছে।
এগুলো হল টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা এবং বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস।
এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ।
নওগাঁ-৫ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে ফোরজি প্রযুক্তি চালু রয়েছে। ফাইভজি প্রযুক্তির বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।
বর্তমানে ঢাকার বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাসহ প্রায় ৪০টি স্থানে এবং ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটসহ বিভাগীয় পর্যায়ে ৪০০টির বেশি স্থানে সীমিত পরিসরে ফাইভজি সেবা চালু রয়েছে।
তবে দেশব্যাপী বাণিজ্যিকভাবে ফাইভজি চালুর সময়সূচি সম্পর্কে সংসদে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ৯ হাজার ৮৪৮টি ডাকঘর রয়েছে।
এর মধ্যে চারটি জেনারেল পোস্ট অফিস, ২৩টি এ-গ্রেড ডাকঘর, ৪৫টি বি-গ্রেড প্রধান ডাকঘর, ৪০৮টি উপজেলা ডাকঘর, ৯৩০টি সাব-পোস্ট অফিস, ১০টি শাখা পোস্ট অফিস, ৩১৯টি ইডিএসও এবং ৮ হাজার ১০৯টি ইডিবিও রয়েছে।




