যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পারা রেফারি দেশে ফিরলেন নায়কের বেশে
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:২৮:১২,অপরাহ্ন ১১ জুন ২০২৬ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত
বিশ্বকাপের মঞ্চে রেফারিংয়ের স্বপ্ন ভেঙেছে। ইতিহাস গড়ার খুব কাছে গিয়েও ফিরে আসতে হয়েছে ওমার আব্দুলকাদির আর্তানকে। সোমালিয়ার এই রেফারি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা পাওয়ার পর, দেশে ফিরে বীরের মতো সংবর্ধনা পেয়েছেন।
২০২৫ সালে আফ্রিকার বর্ষসেরা রেফারি আর্তান সোমালিয়ার প্রথম রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে দায়িত্ব পালন করার পথে ছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহান্তে ৩৪ বছর বয়সী এই রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
কী কারণে আর্তানকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে তখন বিস্তারিত কিছু না জানালেও, ট্রাম্প প্রশাসন মঙ্গলবার জানায়, ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের’ সঙ্গে যোগসূত্র থাকার কারণে আর্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বুধবার সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে পৌঁছানোর পর আর্তান সাংবাদিকদের বলেন, “যা হয়েছে, তা হয়ে গেছে, এটা নিয়তি। ফিফা আমাকে যে সমর্থন দিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
“পরিস্থিতি ভালো হোক বা খারাপ, সোমালিয়া আমাদেরই। আমাদের তরুণদের বলতে চাই, আমাদের দেশকে নিয়ে যেন তারা আশা না হারায়। আমি এখন আমার দেশে আছি এবং অন্য কোথাও থাকতে চাই না।”
এদিন পরে হাজার হাজার উল্লসিত সমর্থক, যাদের কয়েকজনের হাতে পতাকা ও আর্তানের ছবি ছিল, মোগাদিশুর একটি স্টেডিয়ামে জড়ো হয়, যেখানে একটি ম্যাচে আর্তান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আর্তানকে কাঁধে তুলে নেন কয়েকজন। হাত নেড়ে দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দেন তিনি। ‘আর্তান’, ‘আর্তান’ বলে চিৎকার করতে থাকেন দর্শকরা।
অনেকে বলছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে খুবই হতাশ, কিন্তু তাদের চোখে আর্তানের মর্যাদা একটুও কমেনি।
২৬ বছর বয়সী ছাত্র আব্দুলকাদির আলি আবোকর রয়টার্সকে বলেন, “তরুণ একজন হিসেবে আমরা তার কষ্টটা সত্যিই বুঝতে পারছি। আমাদের সবারও স্বপ্ন আছে। তিনি যে পর্যায়ে পৌঁছেছেন, সেখানে পৌঁছানোর জন্য তার অনেক প্রচেষ্টা ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়েছে।”
“আমাদের কাছে এবং সারা বিশ্বের অনেকের কাছে তিনি একজন চ্যাম্পিয়ন।”
এ দিন আর্তানের সঙ্গে দেখা করেন সোমালিয়ার প্রধানমন্ত্রী হামজা আবদি বারে। তার চোখে আর্তান “লাখ লাখ মানুষের মন জয় করেছেন এবং ইতিহাসে নিজের জায়গা পাকা করেছেন।”
তিনি এক্স পোস্টে লিখেছেন “ওমার আর্তান শুধু ফুটবল বিশ্বকেই একত্রিত করেননি, তিনি আপাত দৃষ্টিতে অবাস্তব স্বপ্ন দেখার সাহস রাখা প্রতিটি শিশুর মনে আশার আলো জ্বালিয়েছেন।”




