চেয়ারম্যান বসানোর পরেই ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা শুরু হয়: গভর্নর
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:১৬:৪৫,অপরাহ্ন ১২ জুন ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান বানানোর পরেই ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা শুরু হয় বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এ প্রসঙ্গে কথা বলেন।
ওই সাংবাদিক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, তারল্য সংকটের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে। এ অবস্থায় ইসলামী ব্যাংককে আপনি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমার মনে হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সাহেব এটার উত্তর দিলে ভালো হবে। গভর্নর সাহেব আছেন তো এখানে, গভর্নর সাহেব রেসপন্স করবেন।
তখন গভর্নর প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার জন্য প্রথমে অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে ‘একটু সময়’ চেয়ে নেন। এরপর তিনি গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার সময় থেকে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের অগাস্ট থেকে ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার নানা ঘটনা তুলে ধরেন।
কোন প্রেক্ষাপটে খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়, সে বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন গভর্নর।
শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটিতে নতুন করে যে অস্থিতিশীলতা শুরু হয়, তার সূত্রপাত ঘটে মূলত খুরশিদ আলমকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়েই।
কোরবানি ঈদের আগে ২৪ মে ব্যাংকের চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করেন। সেদিনই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ঈদের পর এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ব্যাংকটির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল ব্যক্তি।
‘গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে তখন থেকে তারা বিক্ষোভ করছেন। আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দিতে একদিন পুলিশ বলপ্রয়োগও করে।
এরপর গত কয়েকদিনে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকরা তিন হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বলে খবর আসে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা গড়ায় জাতীয় সংসদেও।
ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান বসানোর পর আলোচনার মধ্যে ফের ব্যাংকটি ‘দখলের চেষ্টা’ হচ্ছে বলে অভিযোগ তোরেন বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
এর জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংকটিকে ‘অস্থিতিশীল করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে বুধবার ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক বসায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আশ্রাফুল আলমকে।
এসব ঘটনাপ্রবাহ তুলে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া গরম যে, (ইসলামী ব্যাংকে) অবৈধ হস্তক্ষেপ করছে সরকার। সুতরাং, এখন যেটা হয়েছে যে, ঈদের আগের দিন সকাল থেকে একটা স্লোগান উঠেছে, চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চাচ্ছে। তৎকালীন যিনি চেয়ারম্যান ছিলেন, উনি বিকালে (২৪ মে) পদত্যাগ করেন। সুতরাং স্বাভাবিকভাবে এখানে যেহেতু ৫ জনের বোর্ড, আর একটা সিস্টেমিক ব্যাংকে আসলে বোর্ড এই মিনিমাম ৫ জন ছাড়া চলবে না। তো আমাদের তাৎক্ষণিক একটা নিয়োগ দিতে হয়।
তিনি বলেন, অল্প সময়ে আমরা নিয়োগ দিই। এরপর থেকে দেখলাম যে, ব্যাংকটিকে অস্থিতিশীল করার একটা প্রচেষ্টা আছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিও উপস্থিত ছিলেন।




