নাঈম হাসানকে মারধরে জড়িত কাউকে ছাড় নয়: সিএমপি কমিশনার
প্রকাশিত হয়েছে : ৫:০২:৩৮,অপরাহ্ন ১৩ জুন ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর করে থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১২টার দিকে নগরীর বহদ্দারহাট ফরিদার পাড়া এলাকায় নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন সিএমপি কমিশনার। তিনি সেখানে নাঈম হাসানের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। নাঈমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করেন পুলিশ কর্মকর্তা শওকত আলী।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নাঈম সাহেবের কাছ থেকে আমি নিজে ডিটেইল শুনেছি। কাল রাতে শোনার পরই ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এ ব্যাপারে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যারা দায়ী আছে, তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পর্যন্ত দুজনকে আমরা সাময়িক বরখাস্ত করেছি। একজন এসআই শফিকুল ইসলাম, আরেকজন কনস্টেবল রাসেল—দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয়, এটার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পুলিশ সবসময় প্রফেশনাল কাজ করতে চায়। কেউ যদি আনপ্রফেশনাল হয়, তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক যা ব্যবস্থা আছে- সেটা গ্রহণ করব।
সিএমপি কশিশনার বলেন, জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে ফেরার পথে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার মোড় এলাকায় পুলিশ সদস্যরা নাঈম হাসানকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামায়। সেসময় গলা চেপে ধরে তাকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ নাঈমের।
এসময়ন স্থানীয়রা জড়ো হয়ে নাঈমের পরিচয় দিলেও পুলিশ সদস্যরা থামেনি। তখন লাঠি ও পাইপ দিয়ে পেটানো হয় বলে অভিযোগ এ ক্রিকেটারের। পরে তাকে নগরীর খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
গভীর রাতে থানায় যান নাঈম হাসানের বাবা সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুব আলম, তার স্বজন ও স্থানীয়রা। থানায় বিসিবি’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের ফোন আসার আগ পর্যন্ত পুলিশ নাঈমের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ এ ক্রিকেটারের।
শনিবার দুপুরে নাঈমের বাসায় উপস্থিত হওয়া সিএমপি কমিশনারের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, ঘটনার সময় পুলিশের এক সোর্স নিজেকে ডিবি পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে নাঈম হাসানকে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জবাবে কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, তাকে অলরেডি আটক করা হয়েছে। আমি যেটা বলেছি, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাঈম হাসানের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার বলেন, উনি আমাকে ঘটনাটা বলেছেন। আমি বলেছি, পুলিশের দিক থেকে প্রফেশনাল আচরণ হয়নি।
তল্লাশিকালের আচরণের বিষয়ে পুলিশের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ কর্মকর্তা শওকত বলেন, পুলিশকে সমস্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও আছে। এর মধ্য থেকে কেউ কেউ হয়ত আনপ্রফেশনাল আচরণ করে। যারাই এরকম আচরণ করবে, কারো ব্যক্তিগত দায় পুলিশ বাহিনী বহন করবে না।
ঘটনাস্থলে পুলিশের গাড়ি থাকার পরও সিএনজিতে কেন তোলার চেষ্টা হয়েছিল, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা পুরো বিষয়টাই দেখব। যেটুকু অপরাধ থাকবে, সেটা সর্বোচ্চ অ্যাড্রেস করব। ছাড় দেয়া হবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। যেকোনো অন্যায় আচরণের ক্ষেত্রেই সব নাগরিকের জন্য একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএমপি কমিশনার বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ আনপ্রফেশনাল আচরণের কাউকে ছাড় দেবে না। কোন পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত আনপ্রফেশনাল আচরণের জন্য পুলিশ বিভাগ দায় দায়িত্ব নিবে না। এটা তাকেই নিতে হবে।
ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে খুলশী থানার ওসির দুর্ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা সব বিষয়ে তদন্ত করব। একটা কমিটি করে দিয়েছি তিন সদস্যের। পুরো বিষয়টা এনকোয়ারি করা হবে। তাৎক্ষণিক যে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দরকার, করেছি। সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যারা টিমে ছিল সবার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিলে বাকি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাঈম হাসান নিজের পরিচয় দেওয়ার পরেও কেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে শওকত আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে যেটুকু জেনেছি, অবৈধ কোনো কিছু আসছে-এরকম একটা ইনফরমেশন ছিল। এটা পুলিশ অ্যাটেন্ড করবে। বাট পুলিশ প্রফেশনালি কাজ করবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে পুলিশ যেটা করেছে, সেটা প্রফেশনাল হয়নি। এটা প্রফেশনালি করা উচিত ছিল।
ঘটনার পর হাসপাতলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় আছেন নাঈম হাসান। তবে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।




