আইনি জটিলতায় ৮৭ হাজার শিক্ষক পদে নিয়োগ-পদোন্নতি আটকা: শিক্ষামন্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ৬:০১:৫১,অপরাহ্ন ১৪ জুন ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
আইনি জটিলতায় প্রায় ৮৭ হাজার শিক্ষক পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে আছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (১৪ জুন) শেরাটন ঢাকা হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাখাতে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য। বিচারাধীন মামলা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ৪৭ হাজার শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া আটকে আছে।
সবমিলিয়ে প্রায় ৮৭ হাজার পদে আমরা নিয়োগ-পদোন্নতি দিতে পারছি না। এটি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে আছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৮৩ হাজার মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। এ কারণে অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না।
অন্তর্বর্তী সরকার তড়িঘড়ি করে প্রাথমিকে সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের তৎপরতা চালায় দাবি করে তিনি বলেন, আমি জানি না কেন তারা এত তাড়াহুড়ো করে রাতারাতি শিক্ষকদের নির্বাচন করেছে। তাই তাদের গুনমান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আপনারা একদিকে পর্যালোচনা করছেন, অন্যদিকে আমরা তাদের প্রশিক্ষণে পাঠাচ্ছি এবং দুই বছরের জন্য তাদের প্রো-কন্ট্রাক্টে নিয়োগ দিচ্ছি।
শিক্ষাক্রমে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা যুক্ত হচ্ছে জানিয়ে মিলন বলেন, শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে পাঠদানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে।
প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার রোধে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ, মিড ডে মিলসহ নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পাশাপাশি স্যানিটেশন সমস্যার সমাধানেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতের সব সময়ের চেয়ে বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছে, যা মোট বাজেটের ২ শতাংশ। তবে আমাদের লার্নিং আউটকাম বা শিক্ষার ফল এখনও সন্তোষজনক নয়।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীসহ শিক্ষাবিদ ও ইউনিসেফের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।




