এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হতে আরো দুয়েক সপ্তাহ: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:০০:১২,অপরাহ্ন ২৭ জুলাই ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হতে আরো দুয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেছেন, “আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাস সংকট কিছুটা কাটতে শুরু করবে। যদি তাদের (প্রকৌশলীদের) পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোয়, তাহলে প্রথম ধাপে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
“এরপরের সপ্তাহে শতভাগ সক্ষমতা ফিরে আসবে বলে তারা আশা করছে।”
সমুদ্রপথে আনা এলএনজি গ্রহণ ও সংরক্ষণ করা হয় ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে। পরে সেটি আবার গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে পাঠানো হয় জাতীয় গ্রিডে।
এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। কারিগরি ত্রুটিতে ২১ জুলাই একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়, যার প্রভাবে পড়ে দেশজুড়ে।
টার্মিনালটি মেরামত করতে চার-পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে বলে গত শনিবার রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তরফে বলা হয়েছিল। কিন্তু সোমবার প্রতিমন্ত্রীর মুখ থেকে আরো বেশি সময় লেগে যাওয়ার বার্তা এল।
কবে নাগাদ টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হবে, সেই প্রশ্নে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ দিতে চান না অনিন্দ্য ইসলাম।
সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “এর আগেও তারা (প্রকৌশলীরা) সময়সীমা দিয়েছিল, কিন্তু প্রযুক্তিগত কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাই এবার আমরা নির্দিষ্ট দিন-তারিখ বলছি না।”
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে সাধারণ সময়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়।
এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
তিনি বলেন, দুটি এফএসআরইউর একটি বিকল হয়ে যাওয়ায় আমদানি করা এলএনজির সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউতে আগুন লাগার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। তার ভাষ্য, ঘটনার সময় একটি এলএনজি কার্গো কাছাকাছি অবস্থান করছিল। দ্রুত সেটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। এ কারণেই মেরামতে সময় লাগছে।
“এ ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবেলার অভিজ্ঞতা এক্সিলারেট, সামিট কিংবা বাংলাদেশ সরকারের কারও ছিল না। এটা আমাদের সবার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর থেকেই পেট্রোবাংলা, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল) এবং জ্বালানি বিভাগ এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে কাজ করছে।
“প্রথমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশা করা হলেও পরে তা সম্ভব হয়নি। এরপর যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হয়।”
তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এক্সিলারেট এনার্জির আঞ্চলিক প্রধান মঙ্গলবার বাংলাদেশে আসছেন। পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল ও জ্বালানি বিভাগের প্রকৌশলীরা বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন এবং মন্ত্রণালয় থেকেও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনার ক্ষেত্রে কোনো বিলম্ব না করতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।
“তারা এয়ার ফ্রেইটে যন্ত্রাংশ আনবে। আমরা এক ঘণ্টার মধ্যে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স করে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”
গ্যাস সংকটে গৃহস্থালি, শিল্প ও সিএনজি খাতে ভোগান্তির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকার জনগণের কাছে দুঃখিত। এটা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো ত্রুটি নয়, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সমস্যা।
“তারপরও জনগণের প্রত্যাশার জায়গা হলো সরকার। তাই জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভোলা থেকে দ্রুত গ্যাস এনে শিল্পাঞ্চলে সরবরাহের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।
“এখনই অতিরিক্ত এলএনজি কিনতে চাইলেও হবে না। কারণ সেটি ‘রিগ্যাসিফাই’ করার সক্ষমতা সীমিত। আমাদের মাত্র দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। তাই স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে আমরা কাজ করছি।”




