দুই এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস মিলছে ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৫২:৩৬,অপরাহ্ন ১৫ আগস্ট ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
নতুন কার্গো ভেড়ানোর পর সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
শনিবার ভোর ৪টার হিসাবে দুই টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।
সামিট এলএনজি টার্মিনাল বা এসএলএনজি থেকে ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং মহেশখালী (এক্সিলারেট) এলএনজি টার্মিনাল বা এমএলএনজি থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড-আরপিজিসিএলের একজন কর্মকর্তা শনিবার এ তথ্য জানান।
এর আগে আরেকটি কার্গো ‘ভেড়ানো না যাওয়ায়’ বুধবার বেলা ৩টার পর সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি এক্সিলারেট এনার্জির, আরেকটি সামিট এলএনজি টার্মিনালের; তাদের দৈনিক রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা যথাক্রমে ৬০০ ও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তার বিপরীতে দুই টার্মিনাল মিলিয়ে ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।
মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালটি এক্সিলারেট এনার্জির মালিকানাধীন। পেট্রোবাংলা এ টার্মিনালের গ্রাহক। চুক্তি অনুযায়ী এক্সিলারেট এটি ১৫ বছর পরিচালনার পর পেট্রোবাংলার কাছে মালিকানা হস্তান্তর করবে।
আর সামিট এলএনজি টার্মিনালের মালিক সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি লিমিটেড। এতে সামিট করপোরেশনের অংশীদারত্ব রয়েছে ৭৫ শতাংশ, বাকি ২৫ শতাংশ জাপানের মিতসুবিশির। টার্মিনালটিতে এক্সিলারেটের ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট ব্যবহার করা হয়।
সামিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে চালুর পর ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টার্মিনালটিতে ২৫০টি জাহাজ-থেকে-জাহাজ এলএনজি স্থানান্তর সম্পন্ন হয়েছে।
গত ২১ জুলাই এমএলএনজি (এক্সিলারেট) টার্মিনালে আগুনে বয়লার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুই সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর টার্মিনালটির একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট আংশিক চালু হয়। তবে এটি এখনও পুরো সক্ষমতায় ফেরেনি।
সামিটের টার্মিনালও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত দুই দিনে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়। তাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়ির গ্যাস সরবরাহে চাপ পড়ে।
বাংলাদেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। দেশীয় গ্যাস ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে স্বাভাবিক সময়েও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ থাকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মধ্যে কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। ঘাটতি মেটাতে সরকারকে স্পট বাজার ও সরাসরি কেনার দিকে যেতে হচ্ছে।




