শাহরুখ-অজয়-টাইগারকে শোকজ নোটিশ! কারণ কী?
প্রকাশিত হয়েছে : ৮:১০:৩৫,অপরাহ্ন ১৬ আগস্ট ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
মহারাষ্ট্রে নিষিদ্ধ পান মসলা ও তামাকজাত পণ্যের সারোগেট বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বলিউডের তিন তারকা শাহরুখ খান, অজয় দেবগন ও টাইগার শ্রফকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। ‘বিমল এলাচি’র বিজ্ঞাপনে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে অংশ নেওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এফডিএর অভিযোগ, ‘বিমল এলাচি’র মতো পণ্যকে সামনে রেখে মূলত নিষিদ্ধ পান মসলা ও তামাকজাত পণ্যের পরোক্ষ বা ‘সারোগেট’ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সংস্থাটির দাবি, বাজারে ‘বিমল’ ব্র্যান্ডটি মূলত নিষিদ্ধ পান মসলার সঙ্গে ব্যাপকভাবে পরিচিত। ফলে এলাচির বিজ্ঞাপনের আড়ালে নিষিদ্ধ পণ্যের প্রচার হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য সরকার।
খাদ্য নিরাপত্তা ও মান আইন, ২০০৬ (FSS Act, 2006) এবং সংশ্লিষ্ট বিধির আওতায় এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর তিন তারকাকেই ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এফডিএ।
শুধু তারকাদের বিজ্ঞাপন ঘিরেই নয়, মহারাষ্ট্রজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছে এফডিএ। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও সরকারি ক্যান্টিনে ঝটিকা অভিযান চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন চেইন রেস্তোরাঁতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এই অভিযানে সাতারা জেলার কারাদে স্যাফায়ার ফুডস পরিচালিত একটি পিজ্জা হাটের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। সেখানে নিরামিষ ও আমিষ পিজ্জা তৈরির ক্ষেত্রে পৃথক ওভেন ও প্যান ব্যবহার করা হচ্ছিল না বলে অভিযোগ পেয়েছে এফডিএ। খাদ্য নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, আকোলায় স্যাফায়ার ফুডসের আরেকটি আউটলেটে অভিযান চালিয়ে ৫৫ কেজি নিম্নমানের ও বিভ্রান্তিকর লেবেলযুক্ত ফ্রোজেন পনির জব্দ করেছে এফডিএ।
এফডিএ জানিয়েছে, রাজ্যজুড়ে বিশেষ এই অভিযানে মোট ১০৪টি চেইন রেস্তোরাঁ পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে উন্নয়নমূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।
একদিকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেস্তোরাঁ ও খাদ্যপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান, অন্যদিকে নিষিদ্ধ তামাকজাত পণ্যের সারোগেট বিজ্ঞাপনের অভিযোগে বলিউডের শীর্ষ তারকাদের নোটিশ— দুই ক্ষেত্রেই মহারাষ্ট্র এফডিএর সাম্প্রতিক তৎপরতা বেশ কড়া বার্তাই দিচ্ছে।




