যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের ‘চোখে চোখে’ রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৩৬:১৯,অপরাহ্ন ১৬ আগস্ট ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
দেশে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদেরকে ‘চোখে চোখে’ রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কি করেছে? সেই অতীত বিবেচনা করে তাদেরকে চোখে চোখে রাখতে হবে, সেই অতীত বিবেচনা করেই ভবিষ্যতে তারা কী করছে সেদিকে নজর রাখতে হবে। আমরা কি সকলে সতর্ক থাকব? আমরা কি সকলে চোখ-কান খোলা রাখব?
কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে জাতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। সেখানে তিনি ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুদের মধ্যে সন্মানি প্রদান করেন। এছাড়া অস্বচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের আর্থিক অনুদানের চেক এবং প্রতিবন্ধীর হাতে চাকুরির নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশকে আমাদের স্থিতিশীল রাখতে হবে। কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হলে চলবে না। বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করতে আসে অতীতের মত তাদেরকে সমুচিত জবাব দিতে হবে।
একাত্তরে, মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা দেখেছি একাত্তরে তাদের ভূমিকা কী ছিল? আমরা দেখেছি ১৯৮৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল? আমরা দেখেছি ১৯৯৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল? আমরা দেখেছি বিগত ১৭ বছর তাদের ভূমিকা… ১৭ বছরে জনগণের যে আন্দোলন সেই আন্দোলনে তাদেরকে আমরা রাজপথে দেখিনি। দেখেছিলেন আপনারা? ওই আন্দোলনে বিএনপিসহ বিএনপির সাথে যে রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে ছিল তাদেরই নেতাকর্মীরা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে, গুম খুনের শিকার হয়েছে। আজকে যারা বড় বড় কথা বলছে, যারা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে তাদেরকে আমরা রাজপথে বিগত ১৭ বছর দেখি নাই।
মানুষকে পেছনে রেখে কিংবা সঠিকভাবে তৈরি করতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না বলে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যত যতই বড় স্লোগান দেই না কেন, মানুষকে যদি আমরা আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে না পারি, দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে যদি অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে না পারি তাহলে কখনোই আমরা দেশকে গড়ে তুলতে পারব না। আপনারা এখানে দেখেছেন অনেক প্রতিবন্ধী মানুষ এসেছে। তাদের আমরা সহযোগিতা করেছি, আপনারা দেখেছেন মেধাবী বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীদেরকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেছি অর্থাৎ সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণি মানুষকে আমরা রাষ্ট্রের সহযোগিতা পৌঁছে দিচ্ছি, যাতে করে তারা ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে পারে, যাতে করে তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে উঠতে পারে।
সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতি হচ্ছে এই দেশের মানুষকে ঘিরে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতি হচ্ছে এই দেশের জন্য। আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের মানুষের জন্য কাজ করা, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারলেই একমাত্র দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যাবে। এটি হচ্ছে আমাদের রাজনীতি। যেই রাজনীতি আপনাকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করবে সেটি হচ্ছে আমাদের রাজনীতি। যেই রাজনীতি আপনাকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে, যেই রাজনীতি আপনাকে শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিবে, এই রাজনীতি আপনাকে অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীলতে সাহায্য করবে সেটিই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতি।
বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপন ও খাল খনন কর্মসূচি, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুদের সন্মানি প্রদান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদসহ মওকুফের মত কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানদেরকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা মানুষের মত মানুষ হতে পারে। দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে হবে, মিল কল কারখানা তৈরি করতে হবে, যাতে দেশের বেকার যুবকরা বেকার তরুণরা, তরুণীরা যাতে সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। অর্থাৎ আমাদেরকে এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।
সমাজ কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম, জালাল উদ্দীন বক্তব্য রাখেন।
ফ্যামিলি কার্ডের পর শোলাকিয়া মাঠে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তার এক দিনের কিশোরগঞ্জের সফর শেষ হল।




