তারেক রহমানের সফরের প্রস্তুতির খবর দিয়ে প্রত্যাহার করল ভারত
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:৫৯:১১,অপরাহ্ন ২১ আগস্ট ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেটি আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ঘিরে টানাপড়েন এবং তারেক রহমানের সফর ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে শুক্রবার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের এমন কাণ্ড নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি ভবনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, শনিবার (২২ অগাস্ট) রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে নিয়মিত ‘চেইঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান হবে না। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণ মহড়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়নি, সফরের তারিখও জানানো হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে এমন ঘোষণা স্বাভাবিকভাবেই সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
কিন্তু এর পরপরই রাষ্ট্রপতি ভবন কোনো কারণ না দেখিয়ে ওই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নেয়। এটি সফরের সময়সূচি বদলের ইঙ্গিত, নাকি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রক্রিয়াগত কোনো সমস্যা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
রাষ্ট্রপতি ভবন ওই বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর তার ছবি প্রকাশ করে এক্স পোস্ট দিয়েছিল বার্তা সংস্থা আইএএনএস। ভারতের তথ্য অধিদপ্তরও ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। কিন্তু পরে দুটোই সরিয়ে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি এখনো আসেনি। আইএএনএসও পরে পোস্ট সরিয়ে ফেলার কোনো কারণ জানায়নি।
দ্য প্রিন্ট লিখেছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে আটকে আছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ। তাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়া দিল্লি সফরের সম্ভাবনাও নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
ভারতীয় এ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরের বিভাজন ঢাকার ভারত-নীতিকে স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না। আর এ ক্ষেত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই দেশের বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর এবং শরীফ ওসমান হাদীর সন্দেহভাজন খুনিদের হস্তান্তর করার দাবি জানিয়েছে।
ঢাকার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের জন্য একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি করতে এই পদক্ষেপগুলো জরুরি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিমও সম্প্রতি এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
অগাস্টের তৃতীয় সপ্তাহে বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের বিষয়ে দুই সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছিল। কিন্তু হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে টানাপড়েনে ওই সফরের প্রত্যাশায় ভাটা পড়েছে।
দ্য প্রিন্ট লিখেছে, সম্ভাব্য ওই সফর নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আতিথেয়তা দিতে ও বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে নয়া দিল্লি প্রস্তুত।
কিন্তু গত ৫ অগাস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অডিও কলের মাধ্যমে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।
ওই অনুষ্ঠানের আগেই এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছিল বাংলাদেশ। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বাংলাদেশ সরকারের একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য প্রিন্ট লিখেছে, ঢাকা ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক চায়। তবে নয়া দিল্লিকে অবশ্যই শেখ হাসিনাকে এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত রাখতে হবে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।




