৯৫৭ শিক্ষকের পদ ফাঁকা, ৪৬১ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:৪৮:০৮,অপরাহ্ন ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত
হবিগঞ্জের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। জেলার ১ হাজার ৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৬১টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের ৪৯৬টি পদও খালি পড়ে আছে।
সব মিলিয়ে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৯৫৭টি শিক্ষকের পদ ফাঁকা থাকায় প্রায় তিন লাখ শিশুর পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত জেলার নয়টি উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ১ হাজার ৫২টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫৯১ জন, আর শূন্য পদ ৪৬১টি। অর্থাৎ জেলার প্রায় ৪৪ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই।
সবচেয়ে বেশি সংকট বানিয়াচং উপজেলায়। সেখানে ১৬৭টি পদের মধ্যে ৮০টিই শূন্য। এ ছাড়া নবীগঞ্জে ৮২টি, চুনারুঘাটে ৬৯টি, মাধবপুরে ৬৬টি, হবিগঞ্জ সদরে ৫৭টি এবং লাখাইয়ে ৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ খালি।
প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের ঘাটতিও প্রকট। জেলায় সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত ৫ হাজার ৪২৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪ হাজার ৯২৯ জন। শূন্য থাকা ৪৯৬টি পদের মধ্যে ২১৫টিতে চলতি দায়িত্ব দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে, বাকি ২৮১টি পদ সরাসরি নিয়োগযোগ্য।
উপজেলাগুলোর মধ্যে বানিয়াচং, চুনারুঘাট, লাখাই, আজমিরীগঞ্জ, মাধবপুর ও বাহুবলে সহকারী শিক্ষকের সংকট সবচেয়ে বেশি। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদেরই প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুনা লায়লা জানান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্য তৈরি এবং দাপ্তরিক যোগাযোগের মতো কাজগুলো একাই সামলাতে হচ্ছে। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের দাবি জানান তিনি।
হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইলিয়াস বখ্ত চৌধুরী জালাল বলেন, ‘শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব চাপলে তাঁদের মূল কাজ অর্থাৎ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হওয়াটাই স্বাভাবিক। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শিশুদের শেখার মানের ওপর।’
বিশেষ করে দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে একজন শিক্ষককে একই সঙ্গে একাধিক শ্রেণির পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সার্বিক বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, ‘সম্প্রতি জেলায় ২৩৫ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসেই তাঁদের বিদ্যালয়গুলোতে পদায়ন করা হবে।
এতে সহকারী শিক্ষকের ঘাটতি অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণের কাজও চলমান রয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই এই সংকট অনেকাংশে কেটে যাবে।’




