সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত দিল্লির রাজপথ
প্রকাশিত হয়েছে : ২:৩৬:৫৫,অপরাহ্ন ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
জলকামান আর বিক্ষোভে ফের উত্তপ্ত দিল্লির রাজপথ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনে বিরোধীরা। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের অভন্তরীন মতবিরোধের চলে এসেছে প্রকাশ্যে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন জ্ঞানেশ কুমার। দায়িত্ব নেয়ার পর এবার ভোটার তালিকা সংশোধন ও কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ঘিরেই উঠছে প্রশ্ন।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। অভিযোগ, তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই একাধিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভিন্নমত স্বাভাবিক এবং সব সিদ্ধান্তই আইন মেনেই হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের মামলায় জ্ঞানেশ কুমারের একক সিদ্ধান্ত, ভোটার নির্দেশনা, সফটওয়্যার পরিবর্তন ও ফর্ম-৬ সংশোধন বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের আবেদনও রয়েছে জনস্বার্থের মামলায়।
এর মধ্যেই ২৫ সেপ্টেম্বর জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয় কংগ্রেস। চণ্ডীগড় ও বিহারে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। হিমাচল প্রদেশে পোড়ানো হয় জ্ঞানেশ কুমার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিকি মূর্তি।
কংগ্রেসের পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটি ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে তারা।
বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা এসআইআরে খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়লেও সেটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত তালিকা থেকে প্রায় ২৭ লাখ ১৬ হাজার নাম বাদ গেছে; আপিলের পর ১ হাজার ৬০৭ জন আবার তালিকায় ফিরেছেন।
আদালতের মামলা, কমিশনের অন্দরমহলের মতবিরোধ, এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন আর রাজপথের আন্দোলন—সব মিলিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক এখন ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে এনেছে।




