ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা সরাবে তুরস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ৩:২০:০৬,অপরাহ্ন ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
উত্তর ইরাকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাশিকা-জিলকান সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে ইরাক সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে তুরস্ক। ২০১৫ সাল থেকে ওই ঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েন রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কয়েক ধাপে ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ইরাকের কাছে হস্তান্তর করবে তুরস্ক। তবে তুর্কি সেনাদের প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।
ইরাকের ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অগ্রগতির পর দুই দেশ এ সমঝোতায় পৌঁছেছে।
তুরস্ক ও ইরাক আরও জানিয়েছে, সিনজার এলাকায় ইরাকি রাষ্ট্রের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি বন্ধ করার বিষয়ে তারা একমত হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে ইরাককে সিনজারে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এবং অন্যান্য অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
চলতি মাসের শুরুতে ইরাক সরকার জানিয়েছিল, পিকেকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইয়াজিদি সশস্ত্র গোষ্ঠী সিনজার রেজিস্ট্যান্স ইউনিটস অস্ত্র ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে। শর্ত পূরণকারী সদস্যদের ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানানো হয়।
ইসলামিক স্টেট বা আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওই গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল। তবে পিকেকের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় তুরস্ক এটিকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।
বাশিকা-জিলকান ঘাঁটি তুরস্ক ও ইরাকের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম বিষয়। ২০১৫ সালে আইএসের বিরুদ্ধে অভিযান এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তার জন্য তুরস্ক সেখানে সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলে।
উত্তর ইরাকে পিকেকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য তুরস্কের আরও কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তবে বাশিকা-জিলকান ঘাঁটিটি তুরস্কের সীমান্ত থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থিত।
ইরাক এর আগে ওই এলাকা থেকে তুর্কি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল। অন্যদিকে তুরস্ক বলে আসছিল, পিকেকের বিরুদ্ধে অভিযান এবং দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজন।
পিকেকের সঙ্গে তুরস্কের দীর্ঘদিনের সংঘাত অবসানের নতুন উদ্যোগের মধ্যেই এই সমঝোতা হলো। নতুন শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বছর পিকেকি সংগঠনটি নিজেদের বিলুপ্ত করার এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড বন্ধের ঘোষণা দেয়।
এদিকে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও কমিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তর ইরাকে থাকা কয়েক শ মার্কিন সেনাকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে।




