জাতিসংঘে ইরান ও কিউবা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা চীনের
প্রকাশিত হয়েছে : ২:০১:৪৩,অপরাহ্ন ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান ও কিউবা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নীতির তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদে দেওয়া এক ভাষণে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং বেইজিংয়ের এই অনড় অবস্থান তুলে ধরেন। ভাষণে তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করলেও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো এবং কিউবাকে হুমকি দেওয়া বন্ধ করে অবিলম্বে অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য ‘সংশ্লিষ্ট দেশটির’ প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরানে যে মার্কিন যুদ্ধ শুরু হয়, তা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত তীব্র চাপের কারণে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে কিউবার বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে এবং লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে অন্ধকারে ডুবে যায়।
জ্বালানিসংকট ও জরাজীর্ণ কাঠামোর কারণে কিউবার পুরোনো বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থার ওপর আগে থেকেই চাপ ছিল, তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধের পর থেকে এই বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ভয়াবহ রূপ নেয়। এমন মানবিক ও ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটেই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই কড়া বার্তা এল।
তবে জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধির এমন কঠোর বক্তব্য চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার সম্পূর্ণ বিপরীত। ওই সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক বিমানের ফ্লাইওভার ও জমকালো রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের মাধ্যমে শি জিনপিংকে বিপুল সংবর্ধনা জানিয়েছিলেন।
গত শুক্রবার চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটনে বৈঠকের সময় ইরানকে যেকোনো ধরনের সামরিক বা কৌশলগত সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে চীনের প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য আকাশসুরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ইরানকে দিয়েছে চীন এবং বেইজিংয়ের সহায়তায় তেহরান তেল বিক্রির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পথ খুঁজে পেয়েছে এমন খবর প্রকাশ্যে আসার পরই ট্রাম্প ওই আহ্বান জানান। জবাবে চীন এমন সাহায্য করবে না বলে আশ্বাসও দিয়েছিল।
এই কূটনৈতিক বৈপরীত্যের মাঝেই জাতিসংঘের মঞ্চে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে পরাশক্তিগুলোর বিশেষ দায়িত্ব থাকা উচিত। নিয়মকানুন মেনে চলা, আইনের শাসন বজায় রাখা এবং সঠিক কাজটি করার ক্ষেত্রে তাদেরই নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, চীন মনে করে পারস্য উপসাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সবার শ্রদ্ধা জানানো উচিত।
পাশাপাশি, কিউবার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি অবিলম্বে বন্ধের তাগিদ দেন তিনি। চীনকে বৈশ্বিক মঞ্চে এক বিশ্বস্ত অংশীদার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর এক দৃঢ় সমর্থক হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, ছোট কিংবা বড় সব দেশই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমান সদস্য এবং বিশ্বের যেকোনো সংকট সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।
এদিকে, চীনের ভাইস প্রেসিডেন্টের ভাষণের কয়েক ঘণ্টা পর জাতিসংঘের একই অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় ঠিক একই সুর শোনা যায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের কণ্ঠেও। তিনি কিউবার ওপর থেকে ‘অবরোধ’ প্রত্যাহার এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বৃহত্তম এই দ্বীপদেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ পুরোপুরি তুলে নিতে ওয়াশিংটনের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে কিউবাকে সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা দেশের তালিকা থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের অবিলম্বে বাদ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।




