নবম দিনেও চুয়েটে শাটডাউন, চোখে কালো কাপড় বেঁধে শিক্ষার্থীদের ‘অন্ধ’ মিছিল
প্রকাশিত হয়েছে : ৬:৩৯:২৫,অপরাহ্ন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের নবম দিনে চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচিও চলছে।
বুধবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিলে অংশ নেন।
টানা নয় দিন আন্দোলনের পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না আসায় প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে এই কর্মসূচি পালন করা হয় বলে আন্দোলনকারীরা জানান।
এদিকে নবম দিনের মতো ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “এতদিন ধরে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে দেখছি যে, প্রশাসন থেকে তেমন কোনো সাড়া আমরা পাচ্ছি না।
“এখনো তারা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এর প্রতিবাদে চোখে কালো কাপড় বেঁধে আমাদের এই কর্মসূচি।”
আন্দোলনকারী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “এতদিন পার হয়ে যাওয়ার পরেও প্রশাসন কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আমরা একাডেমিক লাইফে ফিরতে পারছি না। আশা করি দেশনেতা তারেক রহমান অতি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে আমাদের জটিলতা নিরসন করে একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেবেন।
“প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন, আমাদের প্রাণের দাবি যেন তিনি মেনে নেন। আমাদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দেন।”
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এক ছাত্রী বলেন, “আমরা নয়দিন ধরে আন্দোলন করার পরেও প্রশাসন নীরব ও অন্ধ হয়ে থাকায় সেটার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে আজ এই কর্মসূচি পালন করলাম। আমাদের সবার দাবি সায়েম স্যারকে পুনরায় ভিসি পদে বহাল করা হোক।”
যেভাবে শুরু আন্দোলন
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য করা হয়।
৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ করে শাটডাউন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তখন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের মধ্যেই অনলাইনে উপাচার্য পদে যোগ দেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সেদিন তিনি দ্রুত ক্যাম্পাসে যাওয়ার আগে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতির সমাধানের কথা বলেছিলেন। তবে বুধবার পর্যন্ত তিনি চুয়েট ক্যাম্পাসে যাননি।
এর মধ্যে গত নয় দিনে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা শাটডাউনের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের অষ্টম দিনে তারা মুখোশ মিছিল ও পরিচয়পত্র প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করেন।




