আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কার্যকর হলো ১০ নতুন নিয়ম
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:১৮:৫২,অপরাহ্ন ০২ অক্টোবর ২০২৬ | সংবাদটি ৪ বার পঠিত
আধুনিক ক্রিকেটের গতি বাড়াতে এবং নিয়মকে আরও স্পষ্ট করতে আইসিসির একঝাঁক নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। সময় নষ্টের জন্য ব্যাটারদের পেনাল্টি দেওয়া, পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের বলের মাপে সুনির্দিষ্ট কড়াকড়ি এবং রানআউট -স্টাম্পিংয়ের সময় ফিল্ডিংয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা যুক্ত হয়েছে এই সংশোধনীতে। গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোতে এই নিয়মগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
১ অক্টোবর বা তার পরে শুরু হওয়া সব আন্তর্জাতিক সিরিজে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। যেসব সিরিজ আগে শুরু হয়েছে, সেগুলো পুরোনো নিয়মেই চলবে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার আসন্ন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজেও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ছেলে ও মেয়েদের সব ফরম্যাটের হালনাগাদ নিয়ম আইসিসির ওয়েবসাইটের রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনস অংশে পাওয়া যাবে। এসব নিয়মে এমসিসির ক্রিকেট আইনের আজ থেকে কার্যকর পরিবর্তনও যুক্ত হয়েছে।
আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট কমিটির সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী বলেন, ‘খেলার শর্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে আছে ক্রিকেট বলসংক্রান্ত নিয়ম, ফিল্ডিংয়ের কিছু বিষয়ে আরও স্পষ্টতা এবং খেলার গতি বাড়ানোর ব্যবস্থা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিবর্তনগুলো খুব ভেবেচিন্তে করা হয়েছে, যাতে খেলার শর্ত আধুনিক খেলার প্রয়োজন মেটায় এবং একই সঙ্গে খেলার সততা ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।’
সব ফরম্যাটের নিয়মে পরিবর্তন আসছে
১। ব্যাটারদের সময় নষ্টের নিয়ম আরও পরিষ্কার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাটার বল খেলতে প্রস্তুত না হলে প্রথমবার সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। দ্বিতীয়বার দেওয়া হবে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। তৃতীয়বার এবং এর পরের প্রতিবার ফিল্ডিং দল ৫ রান পাবে। বারবার এমন করলে আচরণবিধির ধারাও প্রয়োগ হতে পারে।
২। মেয়েদের ক্রিকেটের বলের মাপ ও ওজনে এখন কড়াকড়ি আসছে। পুরুষদের বলের মাপ ও ওজনে সামান্য ব্যতিক্রমের সুযোগ থাকে। মেয়েদের ও জুনিয়র ক্রিকেটে প্রস্তুতকারকরা প্রায়ই দুই ক্ষেত্রের জন্য একই বল বানাতেন। এখন নতুন সীমা ঠিক হয়েছে। ফলে ছেলে, মেয়ে ও জুনিয়র ক্রিকেটের জন্য মাপ ও ওজনের আলাদা তিনটি মান থাকবে।
৩। ওভারথ্রো নিয়ে যে ধোঁয়াশা ছিল, তা কেটে গেছে। স্টাম্পের দিকে বল ছুড়ে রান আটকানো বা রানআউট করার চেষ্টাকে ওভারথ্রো ধরা হবে। বল থামাতে গিয়ে ভুল করা বা অন্য ফিল্ডারকে বল দিতে গিয়ে ভুল করাকে ওভারথ্রো বলা যাবে না।
৪। বল কখন পুরোপুরি ‘ডেড’ হলো, তা ঠিক করার ক্ষমতা আম্পায়ার এখন আরও বেশি পাবেন। ‘ক্লোজ’ ম্যাচের শেষ বলে এই সিদ্ধান্ত অনেক সময় খুব জরুরি হয়ে ওঠে। এখন থেকে বল বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকতেই হবে, এমন নয়।
৫। রানআউট বা স্টাম্পিংয়ের সময় বল ফিল্ডারের হাতে আছে বলে ধরতে হলে ফিল্ডারের বলের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। বল স্টাম্প ভাঙার সময় শুধু হাত ছুঁয়ে গেলে সেটা ‘বলের নিয়ন্ত্রণে থাকা’ গণ্য হবে না।
টেস্ট ক্রিকেটের নিয়মে যেসব পরিবর্তন
৬। খারাপ আলোয় খেলা নষ্ট কমাতে পরীক্ষামূলকভাবে দিনের বেলার টেস্টে গোলাপি বল ব্যবহার করা যাবে। তবে দুই দলকে রাজি হতে হবে। টেস্ট শুরুর আগেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একবার ঠিক হলে পুরো ম্যাচে একই বল চলবে। ম্যাচ শুরুর পরে সিদ্ধান্ত বদলানো যাবে না। লাল বল থেকে গোলাপি বলে যাওয়াও চলবে না।
৭। দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেই আর খেলা শেষ করা যাবে না। আবহাওয়া ও পরিস্থিতি খেলার উপযোগী থাকলে ওভারটি শেষ করতে হবে। আইসিসির মতে, আগের নিয়মে সময় বাঁচত না। কারণ বাকি বলগুলো পরের দিনই করতে হতো। এতে ফিল্ডিং দলও বাড়তি সুবিধা পেত। নতুন নিয়মে খেলার উত্তেজনাও বজায় থাকবে।
টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডের নিয়মে যেসব পরিবর্তন
৮। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে ইনিংসের মাঝের বিরতি এখন ১৫ মিনিট। খেলায় সময় নষ্ট হলে এই বিরতি কমিয়ে সর্বনিম্ন ১০ মিনিট করা যাবে।
৯। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ড্রিংকস ব্রেকের সময় হেড কোচ বা তার মনোনীত কেউ মাঠে ঢুকতে পারবেন। এখন দুই ফরম্যাটের নিয়ম একই হলো।
১০। ওয়াইড বলের নতুন নিয়ম আগে পরীক্ষামূলকভাবে চলছিল। এখন তা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের স্থায়ী নিয়ম হয়েছে। ব্যাটার বল করার আগে বা বল করার সময় নড়াচড়া করলে বোলারকে ছাড় দেওয়ার জন্য এই নিয়ম আনা হয়েছিল। বল করার মুহূর্তে ব্যাটারের পায়ের অবস্থানকে ওয়াইডের মাপকাঠি ধরা হবে এখন থেকে। ব্যাটার পরে অফ সাইডের দিকে সরে গেলেও এটাই ধরা হবে।




