যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের তোপের মুখে ড. ইউনূস
প্রকাশিত হয়েছে : ১:২৭:১৬,অপরাহ্ন ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত
বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী নেতার বিরুদ্ধে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় তিনি এই তোপের মুখে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে লাগেজ হাতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ড. ইউনূসের পথরোধ করে সামনে দাঁড়িয়ে যান। আকস্মিক এই পরিস্থিতির মুখে তাৎক্ষণিকভাবে হুইলচেয়ার ঘুরিয়ে ড. ইউনূসকে পুনরায় টার্মিনালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ড. ইউনূসকে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার সময় হেনস্তাকারীরা তার পেছন পেছন ছুটতে থাকেন এবং উচ্চস্বরে চিৎকার করে বিভিন্ন স্লোগান ও অভিযোগ তুলতে থাকেন। এ সময় একজনকে ইংরেজিতে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “আপনি বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষ ও পুলিশ হত্যা করেছেন, দুই লাখ মানুষকে গ্রেপ্তার করেছেন এবং দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন। আপনি একজন সন্ত্রাসী, এখানে কেন এসেছেন?”
অন্যদিকে, গত ১১ থেকে ১৩ অক্টোবর জার্মানির বার্লিনে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে’ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি সেই সফর বাতিল করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে শুরুতে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও সম্মেলনের ঠিক আগমুহূর্তে বক্তাদের তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইউরোপপ্রবাসী কয়েকটি সংগঠনের আপত্তির মুখে তিনি এই সফর বাতিল করেছেন বলে গুঞ্জন উঠলেও, সম্মেলনের কমিউনিকেশন টিমের পক্ষ থেকে আনা স্টোরমার ইমেইল বার্তায় জানিয়েছেন, মূলত শারীরিক অসুস্থতা বা স্বাস্থ্যগত কারণেই ড. ইউনূস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন।
নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং বার্লিন সফর বাতিলের বিষয়ে জানতে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ মিশন এবং ঢাকার ইউনূস সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




