আশুলিয়ায় নতুন করে বন্ধ ৬০ কারখানা, সব মিলিয়ে সংখ্যা দুই শতাধিক
প্রকাশিত হয়েছে : ৮:০০:৩২,অপরাহ্ন ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে ঢাকা, সাভারের আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় মালিকপক্ষ এসব কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সাভারের আশুলিয়ায় নতুন করে আরও অন্তত ৬০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত কয়েক দিনে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বন্ধ থাকা কারখানার সংখ্যা আড়াই শ ছাড়িয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম জানান, দিনের শুরুতে এলাকার সব কারখানাই খোলা ছিল এবং শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে দলে দলে বের হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারখানার নিরাপত্তা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৬০টি ফ্যাক্টরিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে।
তবে আন্দোলনকারীরা যাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারেন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কঠোর অবস্থানে ছিল। পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, “নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুরে শ্রমিকেরা কোনো রাস্তাই অবরোধ করতে পারেনি। পুলিশ ফোর্স অ্যাপ্লাই করে সব রাস্তা চলমান রেখেছে। কেউ রাস্তা অবরোধ করতে পারেনি।”
আশুলিয়ার পাশাপাশি গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুরেও বিপুলসংখ্যক কারখানা বন্ধ রয়েছে। গত সোমবার (২ নভেম্বর) দিনভর ব্যাপক বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জেরে শুধু গাজীপুর অঞ্চলেই প্রায় ১৫০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে মালিকপক্ষ। যদিও মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরে বিজিবি মোতায়েনের পর কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে ফিরেছেন, তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক কারখানা এখনো বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনসহ কাফরুল ও পল্লবী এলাকার বেশ কিছু পোশাক কারখানা গত দুদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই এসব কারখানার মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায় এবং ‘অনিবার্য কারণবশত’ সাধারণ ছুটির নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
টানা পাঁচ দিন ধরে চলা এই শ্রমিক বিক্ষোভ ও অস্থিরতা নিরসনে সরকার ইতিমধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এর পরও রাজপথে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় বাধ্য হয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কারখানা ও মেশিনারিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছেন মালিকেরা। এতে করে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাতটির উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার পরও যারা কারখানার উৎপাদন ব্যাহত করতে উসকানি দিচ্ছে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। পোশাকশ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতা চালানোর অভিযোগে ইতিমধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে বন্ধ কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী সরকার।




