৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
প্রকাশিত হয়েছে : ৬:৫৮:২৩,অপরাহ্ন ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
মধ্যরাতে পুলিশি ‘হামলা’র প্রতিবাদ এবং অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন্নেসার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ) শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে পুলিশি হামলার তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তাঁরা।
আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে নতুন এই ঘোষণা দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এর আগে নীলক্ষেত – আজিমপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় ওই এলাকার যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা মূলত দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন:
১. মধ্যরাতে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। সেই সঙ্গে হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন্নেসাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর চূড়ান্ত পদত্যাগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
শিক্ষার্থীরা কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, প্রশাসন থেকে দাবি পূরণের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন চলবে। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে, অমানবিক জরিমানাসহ নানা স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। দিনভর অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাতের এই অভিযানে পুলিশ বিনা উসকানিতে তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ ও হাতুড়িপেটা করেছে। এমনকি এক নারী শিক্ষার্থীর চুল ও হিজাব ধরে টানাটানি করা হয়েছে বলেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা, যাতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।




