দেশে-বিদেশে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:১৫:০৮,অপরাহ্ন ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
যেকোনো মূল্যে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। দেশে ও বিদেশে সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের গ্রেপ্তারে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিতাসের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করা হয়।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, তিতাস শেখ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চৌকস ও সাহসী সৈনিক ছিলেন। মানব পাচারকারীদের গুলিতে তাকে হারাতে হয়েছে। এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে যুদ্ধ শুরু করতে হবে। যেকোনো মূল্যে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে। কারণ, তারা দেশের ও জনগণের শত্রু।
মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। মানব পাচারকারীদের শনাক্ত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট শুধু একটি এলাকায় নয়, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয়। বাংলাদেশ থেকে যেসব পথে সাধারণ মানুষকে পাচারের চেষ্টা করা হয়, সেসব দেশের সরকার, পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কীভাবে এসব অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরসহ ১৪টি জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে মানব পাচারবিষয়ক সভা হয়েছে। সেখানে ওয়ার্ড থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিসি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে নিখোঁজ, জিম্মি বা আটক থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে বিভিন্ন ধরনের মাদক কারবারি ও মাফিয়াদের দেখা গেছে, যারা মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী মানব পাচারকারীদের দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে। মানব পাচারকারী চক্র শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও সক্রিয়। দেশে ও বিদেশে সব জায়গায় তাদের বিরুদ্ধে সরকার সোচ্চার রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানব পাচারকারীদের কারণে তিতাসের মতো সাহসী সৈনিকদের জীবন দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও নিরাপদে বিদেশে যেতে পারছে না। এ কারণে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আযাদ, নিহত তিতাসের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফে গহিন পাহাড়ে অভিযান চালানোর সময় মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল শেখের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজো।
২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন তিতাস শেখ। তিনি সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে লস্করদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নানির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।




