৩ মাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ১ জুন থেকে কার্যকর
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:৫৩:৫০,অপরাহ্ন ৩১ মে ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্য প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজননকাল সুরক্ষায় আগামী ১ জুন থেকে টানা তিন মাস সব ধরনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ।
আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এ সময়ে জেলে, বাওয়াল, মৌয়াল, গোলপাতা সংগ্রহকারীসহ কোনো বনজীবী কিংবা পর্যটক সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন না।
বন বিভাগ বলছে, জুন থেকে আগস্টএই তিন মাস সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রজননকাল।
এ সময়ে বনে মানুষের অবাধ যাতায়াত ও সম্পদ আহরণ চললে প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক প্রজনন ও বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।
তাই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও তিন মাসের জন্য প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, “জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রজননকাল। এ সময়ে বনাঞ্চলের নদী-খালগুলো নানা প্রজাতির মাছের ডিম ছাড়ার নিরাপদ ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে।
“একই সঙ্গে সুন্দরবনের বিভিন্ন উদ্ভিদের বীজ অঙ্কুরোদ্গম ও নতুন চারা জন্মানোর জন্যও সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সাল থেকে প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনকে মানুষের সব ধরনের হস্তক্ষেপমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ।”
বন বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য কোনো ধরনের পাস বা পারমিট ইস্যু করা হবে না। কেউ অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করলে বন আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ টহল ও নজরদারি জোরদার করা হবে।
বন সংরক্ষক ইমরান বলেন, “বনজীবীদের নৌযান চলাচল, মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, পর্যটকবাহী ট্রলারের শব্দ এবং মানুষের উপস্থিতির কারণে বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ ও প্রজননপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
“ফলে তিন মাস সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশে রাখা গেলে প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।”
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও সুন্দরবন-নির্ভর হাজারো পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আয়-রোজগারের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগামী তিন মাস কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বনজীবীরা।
তবে টানা তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন বননির্ভর মানুষরা। বনজীবীদের দাবি, বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা ও সরকারি সহায়তা ছাড়া দীর্ঘ সময় বন বন্ধ থাকলে তাদের জীবিকা সংকটে পড়ে। অনেককে ঋণ করে সংসার চালাতে হয়।
অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে দুর্বলতার অভিযোগও তুলেছেন বননির্ভরদের কেউ কেউ। তাদের দাবি, প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ সময়েও সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে থাকেন।
সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক শুভ্র শচীন বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বননির্ভর মানুষের আয় কমেছে।’’
তিনি বনজীবীদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান এবং নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের ওপর প্রায় দেড় লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। প্রতিবছর ১২ হাজারের বেশি জেলেনৌকা মাছ আহরণের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ করে এবং বছরে দুই লাখের বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটি ভ্রমণ করেন।




