এই বাজেটে সরকারের ১০ অগ্রাধিকার
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:২২:২০,অপরাহ্ন ১১ জুন ২০২৬ | সংবাদটি ৪ বার পঠিত
আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি সরকারের বর্তমান মেয়াদে এটি তার প্রথম বাজেট।
সরকারের লক্ষ্য আগামী অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা। এই লক্ষ্য অর্জনে বাজেটে ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।
সবার জন্য উন্নয়ন: সব মানুষ, শ্রেণী, খাত ও অঞ্চলের ন্যায্য অংশগ্রহণ ও অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা সরকারের মূল লক্ষ্য।
সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা: মৌলিক অধিকার হিসেবে একটি মূল্যবোধভিত্তিক, দক্ষতানির্ভর ও বাস্তবসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে এই বাজেটে। পাশাপাশি সবার জন্য মানসম্মত ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা: সব বয়স ও শ্রেণির মানুষদের জন্য একটি সর্বজনীন ও জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি মজবুত করতে চায় সরকার।
বিনিয়োগবান্ধব, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি: পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারের মাধ্যমে তরুণদের জন্য উদ্যোক্তা হওয়া এবং কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি করা এই খাতের লক্ষ্য। একই সঙ্গে কৃষি খাতকে উৎপাদন, জীবিকা ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার একটি কৌশলগত খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং সাশ্রয়ী ও সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ: নিয়মনীতি বা আইনি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অযথা বিলম্ব দূর করে একটি স্বচ্ছ, সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী।
আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা: ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা ও দায়বদ্ধতা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এই প্রস্তাবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারের সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা: উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে একটি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন: একটি ভবিষ্যৎমুখী, গতিশীল ও প্রযুক্তিগতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতি গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর করা এই বাজেটের একটি অন্যতম অগ্রাধিকার।
জীবন, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, সরকারি উদ্যোগে বনায়ন বৃদ্ধি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশগত ছাড়পত্রের নীতি বজায় রাখা, নদীর নব্যতা ফিরিয়ে আনা ও খাল খনন কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে একটি টেকসই, সবুজ এবং পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা: সর্বশেষ অগ্রাধিকার হিসেবে, সরকারি বিনিয়োগের বাস্তবায়নকে দক্ষ ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে টেকসই জাতীয় সক্ষমতা তৈরি করা হবে।




