কোস্ট গার্ড স্টেশনে হামলা: নিখোঁজ মিরাজের স্ত্রী, মা-বোনসহ আসামি ৩০০
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৩০:১১,অপরাহ্ন ১২ জুন ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
বাগেরহাটের মোংলায় সুন্দরবন লাগোয়া কোস্ট গার্ডের হারবাড়িয়া স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছয়জনকে।
বৃহস্পতিবার রাতে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের হারবাড়িয়া স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. শাহিদুর রহমান শাহিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান।
সরকারি কাজে বাধা, দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা ওই মামলায় ৪৪ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও ২৫০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, জয়মনির ঠোঠা এলাকার বাসিন্দা জেলে মিরাজ শেখ প্রায় দুই মাস ধরে ‘নিখোঁজ’ বলে তার পরিবার দাবি করেছে। তার সন্ধানে পরিবার বিভিন্ন জায়গায় ধরণা দিচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ, ১০ এপ্রিল মিরাজকে জয়মনির ঠোঠা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেই ঘটনার সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে কোস্ট গার্ডের স্টেশনে হামলা চালাতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
কোস্ট গার্ডের মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ‘নিখোঁজ’ মিরাজের স্ত্রী মুক্তা খাতুনকে। এ ছাড়া মিরাজের বোন লিজা ইসলামকে দুই নম্বর এবং মা তাসলিমা বেগমকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এই তিনজনকেই বৃহস্পতিবার আটক করে কোস্ট গার্ড। মামলায় যে ৪৪ আসামির নাম দেওয়া হয়েছে তাদের সবার বাড়িই মোংলা উপজেলার জয়মনি গ্রামে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসামিরা গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে বেআইনিভাবে সমবেত হয়ে স্থানীয় লোকজনকে উত্তেজিত করে। তারা ১৫-২০টি নৌকায় করে হারবাড়িয়া কোস্ট গার্ড স্টেশনের পন্টুন এলাকায় জড়ো হন।
এ সময় তারা সরকার ও কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার বিদ্বেষমূলক, হিংসাত্বক ও উসকানিমূলক স্লোগান দিতে দিতে স্টেশনে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এতে বলা হয়, হামলাকারীরা ধারালো দা, ছুরি, কিরিচ, লোহার রড, বটি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কোস্ট গার্ড সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং দায়িত্ব পালনে বাধা দেন। এ সময় পন্টুনের জানালার কাচ, চেয়ার, ফ্যান, লাইট, টেবিলসহ বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়।
এ ছাড়া একটি আউটবোর্ড ইঞ্জিন, একটি আরবি-১০০১ বোট, নয়টি সোলার প্যানেল, চারটি বড় ব্যাটারি, কয়েকটি ফ্যান, গ্যাসের চুলা, লাইট ও প্লাস্টিকের টেবিল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় দুই কোটি ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ঘটনার সময় আত্মরক্ষা ও অস্ত্রাগারসহ সরকারি মালামাল রক্ষায় উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ৪৫টি ফাঁকা গুলি করা হয়।
মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, কোস্ট গার্ড ও পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনজন এজাহারনামীয়। তাদের শুক্রবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




