জাল ভিসায় ইতালিতে ৩ জন, বিমান কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:৫০:৫৭,অপরাহ্ন ১৬ জুন ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
জাল ভিসায় ৩ জনকে ইতালিতে পাঠানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। জামালপুর থেকে মঙ্গলবার সকালে ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের পর দুপুরে ঢাকার মালীবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা।
বিমানের গ্রাউন্ড অফিসার আকলাসুর রহমানের সহযোগিতা নিয়ে ওই তিন ব্যক্তি জাল ভিসায় কীভাবে ইতালি গিয়ে ধরা পড়েন ও পরে তাদের মধ্যে দুইজন ফেরত আসেন–সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন এই সিআইডি কর্মকর্তা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিমান কর্মকর্তা আকলাসুরের ‘যোগসাজসে’ গত ২৬ মে তিনজন ইতালিগামী বিমানের একটি ফ্লাইটে দেশ ছেড়েছিলেন। রোম বিমানবন্দরে গিয়ে জাল শেনজেন ভিসাসহ ধরা পড়েন মোস্তাফিজুর রহমান অনিক ও অক্ষয় চন্দ্র দাস। পরে তাদের দুই দিন হেফাজতে রেখে ২৮ মে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। তবে আরেকজন কৌশলে ইমিগ্রেশন শেষ করে ইতালিতে প্রবেশ করতে পারায় তার নাম-পরিচয় বলেনি সিআইডি।
দেশে ফেরত আসার পর বিভিন্ন সংস্থা দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গোটা চক্রের তথ্য বেরিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে অনিক ও অক্ষয় স্বীকার করেন, জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে একটি চক্রের সহায়তায় তারা দেশ ছেড়েছিলেন। ইতালি পৌঁছাতে অগ্রিম দিয়েছিলেন জনপ্রতি ২০ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় ৩০ মে বিমানবন্দর থানায় ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সিআইডি মামলার আসামিদের নাম না জানালেও তাদের মধ্যে বিমানের আরেক কর্মকর্তা থাকার তথ্য মিলেছে। তবে মামলায় আকলাসুরের নাম ছিল না। সিআইডির তদন্তে তার জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে আসায় আকলাসুরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি কর্মকর্তা বদরুল আলম মোল্লা বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের ইমিগ্রেশনে এবং বোর্ডিং পাসের কোথাও এই যাত্রীদের ধরা যায়নি। প্রথমে তারা নেপালগামী বিমান ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করেন। সেই বোর্ডিং পাসটি আসল হলেও ওই ফ্লাইটের যাত্রী তালিকায় তাদের নাম ছিল না।
এক্ষেত্রে বিমানের সেই অন্য কর্মকর্তার সহযোগিতা ছিল বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য।
ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, বোর্ডিং পাস হাতে পাওয়ার পরই তারা ইমিগ্রেশন শেষ করেনি। তারা পাঁচ নম্বর স্টাফ গেট দিয়ে বের হয়ে যায়। ওখানে যে কার পার্কিং রয়েছে, সেখানে একটি গাড়িতে বসে একজনের কাছ থেকে ইতালির বিমানের বোর্ডিং পাস, টিকেট এবং ভুয়া ভিসা সংগ্রহ করে। পরে ফিরে এসে তারা নেপালের বোর্ডিং পাস দিয়ে ইমিগ্রেশন করে। (ভিডিওতে) আমরা দেখতে পাই, বিমানের একজন কর্মকর্তা এই তিনজন যাত্রীকে সহায়তা করছেন। তারা এক পর্যায়ে ওয়াশরুমে যায়, যা সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত না। সেখানে গিয়ে তারা জাল শেনজেন ভিসাটি পাসপোর্টে সংযুক্ত করে।”
জাল ভিসায় বিমানে ওঠার আগে আইএনএস গেইটে গেলে সেখানে দায়িত্বরত গ্রাউন্ড অফিসার আখলাসুর তাদের পার করিয়ে দিয়েছিলেন বলে তথ্য দেন বদরুল আলম মোল্লা।
তিনি বলেন, যেহেতু ইমিগ্রেশন করা হয়েছিল নেপালগামী বোর্ডিং পাসে, তাই তাদের ইতালিগামী প্লেনে ওঠানোর জন্য শুধুমাত্র আইএনএস গেইটটাই ছিল। সেখানে আকলাসুর ছিল। উনার সহায়তায় ওই তিনজন গেইটটিও পার হয়ে যান এবং ইতালিতে তারা পৌঁছেও যান। কিন্তু ইতালি ইমিগ্রেশন পুলিশ দুইজনের জাল ভিসা শনাক্ত করে দেশে ফেরত পাঠায়।
বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল বলেন, মানবপাচারকারী চক্রের হোতা ও অন্য সহযোগীদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। শুধু দালাল চক্র, এয়ারলাইন্সের অথবা আমাদের যে টিকেটিং এজেন্সি বা রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের মধ্যে আমরা তদন্তে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। সরকারি কর্মকর্তা বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান অথবা আমাদের সিভিল এভিয়েশন সংক্রান্ত যারাই মানবপাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের চেষ্টা করবে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করব।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা মৌখিকভাবে স্বীকার করেছেন আখলাসুর। যেহেতু তাকে জামালপুর থেকে আনা হচ্ছে, এরপর আমরা তাকে আদালতে পাঠাব। কিন্তু অন্য কোনো ঘটনার ব্যাপারে সে এখনো মুখ খোলেনি।
এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে ইমিগ্রেশন পুলিশের সঙ্গে বোর্ডিং পাসের লিস্টের ‘সমন্বয় থাকা উচিৎ’ বলেও মনে করেন এই কর্মকর্তা।




