ইরানি গায়িকাকে ৭৪ দোররা মারার নির্দেশ আদালতের
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:০৫:০৪,অপরাহ্ন ২০ জুন ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
হিজাব ছাড়া গান পরিবেশনের অভিযোগে ইরানি গায়িকা পারাস্তু আহমাদি এবং তার প্রযোজনা দলের আট সদস্যকে দোররা মারার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইরানের একটি আদালত থেকে।
কোয়ম প্রদেশের একটি ফৌজদারি আদালত এই রায় দিয়েছেন।
ঘটনা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের। ইউটিউব লাইভে ‘আজ খুনে জাভানানে ওয়াতান’ শিরোনামের একটি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন ২৯ বছর বয়সী পারাস্তু। এ সময় তিনি হিজাব ছাড়াই পারফর্ম করেন। গানটি সে সময় হয়েছিল ভাইরাল। কিন্তু ওই কনটেন্টটিকেই ‘অশ্লীল’ আখ্যা দিয়েছে ইরানের আদালত। গান প্রকাশের কিছুদিনের মধ্যেই পারাস্তু ও তার কয়েকজন সতীর্থকে আটক করে ইরানের প্রশাসন। পরে তারা মুক্তি পেলেও আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সে মামলার রায়েই দোররা ও নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, এ খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সমালোচনা হচ্ছে। মানবাধিকার ও সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, এই রায় কেবল একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভিন্নমত ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতাকে দমনের একটি উদাহরণ। তাদের মতে, সরকারের সমালোচনামূলক অবস্থানে থাকা শিল্পীদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ ইরানে দীর্ঘদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান’-এর অ্যাডভোকেসি পরিচালক বাহার ঘান্দেহারি বলেন, ‘শুধু গান গাওয়া এবং হিজাব ছাড়া উপস্থিত হওয়ার কারণে একজন শিল্পীকে ৭৪ দোররা মারার সাজা দেওয়া অত্যন্ত কঠোর ও উদ্বেগজনক। এটি ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।’
অন্যদিকে, ইরানি অ্যাক্টিভিস্টদের আইনি সহায়তাদানকারী সংস্থা ‘দাদবান’-এর মানবাধিকার আইনজীবী মইন খাজায়েলির মতে, এই রায়ের কোনো স্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। ইরানের প্রচলিত আইনে নারীদের গান গাওয়া বা সংগীত পরিবেশন করাকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এসব কর্মকাণ্ডকে ‘অশ্লীল কনটেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করা আইনের অপপ্রয়োগ।
এ ঘটনায় ইরানি-ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি, নির্বাসিত ইরানি অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকিসহ অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন।




